20 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাখেজুর আমদানি ১৯২% বৃদ্ধি, তবে রমজানে দাম স্থিতিশীল নয়

খেজুর আমদানি ১৯২% বৃদ্ধি, তবে রমজানে দাম স্থিতিশীল নয়

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রমজান মাসের আগমনে খেজুরের চাহিদা বাড়লেও, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানি পরিমাণে বিশাল উত্থান দেখা গেছে। শুল্ক হ্রাসের পরেও বাজারে দাম স্থিতিশীল নয়, ফলে ইফতারের টেবিলে খরচ বাড়ছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৩,১৮৪ মেট্রিক টন খেজুর দেশে পৌঁছেছে। একই সময়সীমায় ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ৯,৩০১ মেট্রিক টনে বেড়েছে, যা এক বছরের মধ্যে ১৯২ শতাংশের উর্ধ্বগতি নির্দেশ করে। শুল্ক কমানোর নীতি সত্ত্বেও আমদানি পরিমাণে এই তীব্র বৃদ্ধি বাজারের সরবরাহ-চাহিদা ভারসাম্যকে প্রভাবিত করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ১ নভেম্বর থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ৪৯,৮০৭ টন খেজুর প্রবেশ করেছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ৪৪,৭১৬ টন ছিল, ফলে ১১.৪ শতাংশ বা ৫,৯১ টন বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়কালে রমজানের চাহিদা পূরণে আমদানি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, তারা মূল্যে কোনো বাড়তি পরিবর্তন করেনি; তবে আমদানিকৃত পণ্যের উচ্চ মূল্যের কারণে ক্রেতাদের জন্য খরচ বাড়ছে। সরাসরি আমদানিতে যুক্ত ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক ধর্মঘটের ফলে পণ্য খালাসে বাধা পেয়েছেন, যা সরবরাহে ঘাটতি সৃষ্টি করে এবং রিটেল বাজারে দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উল্লেখ করেন, শুল্কছাড়ের সুবিধা সত্ত্বেও বন্দরের অচলাবস্থা এবং অতিরিক্ত চাহিদা দামকে কমাতে বাধা দিচ্ছে। রমজানের মৌসুমে চাহিদা তীব্র হওয়ায় এই ঘাটতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর বাদামতলী বাজার, যা দেশের অন্যতম বৃহত্তম ফলের পাইকারি আড়ত, সেখানে মোল্লা ফ্রেশ ফোর্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আল-আমিনের মতে, মূল সমস্যাটি বন্দরের অস্থিরতা। তিনি বলেন, বন্দরে পণ্য সময়মতো খালাস না হওয়ায় প্রায় ১৫ দিনের একটি ফাঁক তৈরি হয়েছে, যার ফলে খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের বার্ষিক খেজুরের চাহিদা ৯০,০০০ থেকে ১,১০,০০০ টনের মধ্যে পরিবর্তিত হয়, যার মধ্যে রোজা মাসে প্রায় ৬৫,০০০ টন প্রয়োজন। রোজার চাহিদার তুলনায় বর্তমানে ১৫,০০০ টন বেশি খেজুর আমদানি করা হয়েছে, যা সরবরাহের অতিরিক্ততা নির্দেশ করে।

দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে, ২৩ ডিসেম্বর থেকে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং এই হ্রাস ৩১ মার্চ পর্যন্ত বজায় থাকবে। শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে রোজা মাসে ভোক্তাদের জন্য দামকে সহনীয় রাখা লক্ষ্য করা হয়েছে।

শুল্ক হ্রাসের পরেও বাজারে দাম স্থির না থাকার মূল কারণ হিসেবে বন্দরের লজিস্টিক সমস্যাকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শ্রমিক ধর্মঘটের পুনরাবৃত্তি এবং পণ্য খালাসে বিলম্ব ভবিষ্যতে দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, যদি বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক না হয় এবং আমদানি পরিমাণে অতিরিক্ত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে, তবে রমজান শেষে দাম পুনরায় বাড়তে পারে। তাই সরকারকে লজিস্টিক অবকাঠামো শক্তিশালী করে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার দক্ষতা বাড়াতে হবে।

সারসংক্ষেপে, খেজুরের আমদানি ১৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েও শুল্ক হ্রাসের পরেও বাজারে দাম স্থিতিশীল নয়। বন্দরের অস্থিরতা, শ্রমিক ধর্মঘট এবং রমজানের তীব্র চাহিদা মূলত দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ, যা ভোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments