আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রাক্তন প্রধান প্রোসিকিউটর তাজুল ইসলাম এবং সহপ্রোসিকিউটর গাজী মনাওয়ার হোসেন তামিমের বিরুদ্ধে কর্পশন ও অনিয়মের অভিযোগ বিএম সুলতান মাহমুদের ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত হয়েছে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বছরের নভেম্বরের শেষের দিকে, আশুলিয়ার ছয় দেহ পোড়ার ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আবজালের স্ত্রী তামিমের ঘরে একটি ভারী ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করেন। এই ঘটনার পর সুলতান ও তার সহকর্মীরা তাজুলের ঘরে গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দেন, তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং তারা তাজুলের কাছ থেকে তাড়া পেয়েছেন।
সুলতান আরও জানান যে, তামিম পরে উপস্থিতদের সামনে স্বীকার করেন যে আবজালের স্ত্রী তার অফিসে গিয়েছিলেন। তাজুলের প্রশ্নের উত্তর হিসেবে তিনি শুধুমাত্র “অভিযুক্তের স্ত্রী কেন ঘরে গিয়েছে?” বলে জিজ্ঞাসা করেন এবং বিষয়টি এখানেই শেষ হয়। এরপর আবজালকে রাষ্ট্রসাক্ষী হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং চূড়ান্ত রায়ে তাকে দোষমুক্ত করা হয়, যা সুলতানের মতে আর্থিক লেনদেনের ফল।
চানখারপুলের ঘটনায়ও সুলতান উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ঐ মামলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রতিবাদকারীদের উপর গুলিবর্ষণ করে কমপক্ষে ছয়জনের মৃত্যু ঘটায়। সুলতান উল্লেখ করেন যে, সাব-ইন্সপেক্টর আশরাফুলকে গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেয়া ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে, তবু তাকে অভিযুক্তের বদলে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভিডিওটি প্রয়োজন হলে যে কেউ দেখতে পারবে।
রংপুরের আবু সায়েদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় সহকারী পুলিশ কমিশনার আল ইমরান হোসেনকে হঠাৎ করে বাদ দেওয়া নিয়ে সুলতান প্রশ্ন তোলেন। আদালতে বেশ কয়েকজন সাক্ষী ইমরানের নাম উল্লেখ করার পর তিনি মামলাটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন, যা সুলতানকে সন্দেহজনক মনে হয়েছে।
সুলতান আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাক্তন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই রাষ্ট্রসাক্ষী করা হয়েছে। তার নির্দেশে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে শতাধিক মা-দাদীর ক্ষতি হয়েছে, যা তিনি “শক্তি ব্যবহার করে মায়ের গর্ভে থাকা শিশুকে নিঃশেষ করা” হিসেবে বর্ণনা করেন।
আশুলিয়া মামলায়ও সুলতান দাবি করেন যে, আবজালকে অর্থের বিনিময়ে রাষ্ট্রসাক্ষী করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় তিন-চারজনের একটি গোষ্ঠী জড়িত। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই গোষ্ঠী মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে লেনদেন ও প্রভাব বিস্তার করেছে।
বিএম সুলতান মাহমুদের এই অভিযোগগুলো এখনও কোনো সরকারি তদন্তের অধীনে নেই, তবে তিনি ফেসবুকে প্রকাশের মাধ্যমে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা দেননি।
আইসিটি-র অভ্যন্তরীণ তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের অভিযোগের যথাযথ তদন্তের দাবি বাড়ছে। আইনগত প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক প্রবাহে যদি কোনো অনিয়ম থাকে, তবে তা সংশোধন করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সুলতানের পোস্টে উল্লেখিত ভিডিও ও সাক্ষ্যগুলো যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, যদি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তবে তা পুনরায় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হবে।
এই মুহূর্তে আদালত ও তদন্ত সংস্থার কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা আদেশ প্রকাশিত হয়নি, তাই বিষয়টি কীভাবে এগিয়ে যাবে তা এখনও অনিশ্চিত। তবে জনমত ও মিডিয়ার নজরদারি অব্যাহত থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।
সর্বশেষে, আইসিটি-র অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে এই অভিযোগগুলোকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রোসিকিউটরদের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর আহ্বান করা হচ্ছে।



