গুগল ক্লাউডের প্রোডাক্ট ভিপি মাইকেল গেরস্টেনহাবার এআই মডেলের বিকাশে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সীমা—কাঁচা বুদ্ধিমত্তা, প্রতিক্রিয়া সময়, এবং স্কেলযোগ্য খরচ—উল্লেখ করে গুগলের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
মাইকেল গেরস্টেনহাবার প্রায় দুই বছর ধরে এআই ক্ষেত্রে কাজ করছেন। তিনি অ্যানথ্রপিক-এ এক বছর অর্ধেক সময় কাটিয়েছেন এবং গুগলে আধা বছর কাজ করছেন, যেখানে তিনি Vertex নামক গুগলের একীভূত এআই ডিপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের দায়িত্বে আছেন।
Vertex হল একটি সমন্বিত পরিবেশ, যেখানে এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকরা তাদের নিজস্ব এআই অ্যাপ্লিকেশন তৈরি ও চালাতে পারে। এই প্ল্যাটফর্মের প্রধান ব্যবহারকারী হলেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, যারা এজেন্টিক প্যাটার্ন এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতার মডেলের ইনফারেন্স অ্যাক্সেস করতে চান। মাইকেল উল্লেখ করেন, তিনি গ্রাহকদের জন্য এআই মডেল সরবরাহ করেন, তবে অ্যাপ্লিকেশন নিজে তৈরি করার কাজ গ্রাহকই করেন।
গুগল ক্লাউডের এই পদ্ধতি শপিফাই, থমসন রয়েটার্স এবং অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। এই গ্রাহকরা নিজস্ব ডোমেইনে গুগলের এআই ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন সেবা ও পণ্য উন্নয়ন করে থাকে।
মাইকেল গেরস্টেনহাবার মতে, গুগলকে বিশেষ করে তোলে তার সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম। গুগল নিজেই ডেটা সেন্টার নির্মাণ, বিদ্যুৎ ক্রয়, এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে সক্ষম, ফলে ইনফ্রাস্ট্রাকচার খরচে স্বনিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে। এছাড়া গুগলের নিজস্ব চিপ, মডেল এবং ইনফারেন্স লেয়ার রয়েছে, যা এআই সেবার গতি ও দক্ষতা বাড়ায়।
গুগল এছাড়াও এজেন্টিক লেয়ার ও মেমরি, কোড ইন্টারলিভিং ইত্যাদি API সরবরাহ করে। এই API গুলো ডেভেলপারদেরকে স্মৃতি সংরক্ষণ, কোড স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিখতে এবং জটিল কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। গুগলের এজেন্ট ইঞ্জিন এই সব ফিচারকে নিয়ন্ত্রণ ও শাসনের জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে, যাতে নিরাপত্তা ও নীতি মেনে চলা যায়।
মাইকেল উল্লেখ করেন, গুগলের প্ল্যাটফর্মে চ্যাট ফাংশনও অন্তর্ভুক্ত, যা ব্যবহারকারীর সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে এআই সেবা প্রদান করে। এই চ্যাট সেবা গুগলের বিস্তৃত এআই স্ট্যাকের একটি অংশ, যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করে।
এআই মডেলগুলো যে তিনটি সীমার মুখোমুখি, তা গুগলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মূল ভিত্তি। প্রথমত, কাঁচা বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে মডেলের জটিলতা ও শেখার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, রিয়েল-টাইম প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে ইনফারেন্স গতি দ্রুত করা জরুরি। তৃতীয়ত, মডেলকে বিশাল, অনির্দেশ্য স্কেলে চালানোর জন্য খরচ কমিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
গুগল এই তিনটি দিক একসাথে সমাধান করতে পারলে এআই প্রযুক্তি আরও বিস্তৃত শিল্পে প্রবেশ করতে পারবে, বিশেষ করে এমন ক্ষেত্রে যেখানে বড় পরিমাণ ডেটা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন। মাইকেল গেরস্টেনহাবার মতে, এটাই গুগলের এআই সেবাকে প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে।
গুগল ক্লাউডের এই কৌশলিক দৃষ্টিভঙ্গি এআই ডেভেলপার ও এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করে। স্কেলযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং দ্রুত এআই সমাধান সরবরাহের মাধ্যমে গুগল ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির মূলধারায় স্থান নিশ্চিত করতে চায়।
সারসংক্ষেপে, গুগল ক্লাউডের এআই প্ল্যাটফর্ম Vertex এবং তার নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি এআই মডেলের ক্ষমতা, গতি এবং খরচের তিনটি মূল সীমা সমাধানে কেন্দ্রীভূত, যা শিল্পের রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



