বাংলাদেশের পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক বিবৃতি প্রকাশ করে interim সরকার কর্তৃক গৃহীত ইউনিফর্ম পরিবর্তন পরিকল্পনাকে ‘হড়হড়ে’ সিদ্ধান্ত বলে সমালোচনা করেছে। সংস্থার মতে, অধিকাংশ পুলিশ সদস্য নতুন পোশাকের পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী খাকি ইউনিফর্ম বজায় রাখতে চান এবং সিদ্ধান্তের আগে যথাযথ গবেষণা ও জনপরামর্শের অভাবকে প্রধান অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।
অ্যাসোসিয়েশন উল্লেখ করে, ২০০৩‑২০০৪ সালে পূর্ববর্তী সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে ব্যাপক পর্যালোচনার পর বর্তমান খাকি ইউনিফর্ম প্রবর্তন করে। সেই সময়ে পোশাকের রঙ, দেশের উষ্ণমণ্ডলীয় আবহাওয়া, দিনের ও রাতের দায়িত্বে দৃশ্যমানতা, এবং অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য এড়ানোর বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, সম্প্রতি গঠিত interim সরকার নতুন ইউনিফর্ম নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষা করেছে বলে সংস্থা অভিযোগ জানায়। নতুন ডিজাইনটি অন্যান্য সরকারি সংস্থার পোশাকের সঙ্গে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ, ফলে মাঠে পুলিশ কর্মীকে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন আরও জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের সময় প্রায় সব পুলিশ কর্মী ঐতিহ্যবাহী ইউনিফর্মে কাজ করে দেশের স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করেছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসা পেয়েছে।
সংস্থার মতে, ইউনিফর্ম পরিবর্তন একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। নতুন পোশাকের জন্য ব্যয়িত তহবিলের পরিবর্তে পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন, স্টেশনগুলোতে গাড়ি সরবরাহ এবং লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা উচিত বলে তারা জোর দেয়।
অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্ট করে যে, ইউনিফর্মের রঙ বা নকশা মূল বিষয় নয়; বরং পুলিশ সদস্যদের মানসিকতা, মনোবল ও পেশাদারিত্বের উন্নয়নই এখন অগ্রাধিকার। তারা সরকারকে এই দিকগুলোতে মনোযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্ট নীতি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানায়।
প্রতিবাদী মতামত সত্ত্বেও, interim সরকার এখনও নতুন ইউনিফর্মের প্রয়োগের পরিকল্পনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থা দাবি করে, জনপরামর্শের অভাব এবং কর্মীদের মতামত উপেক্ষা করা ভবিষ্যতে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও জনসাধারণের বিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।
অ্যাসোসিয়েশন ভবিষ্যতে সরকারকে একটি স্বচ্ছ পরামর্শ প্রক্রিয়া চালু করতে এবং ইউনিফর্ম পরিবর্তনের আগে ব্যাপক গবেষণা সম্পন্ন করতে আহ্বান জানাচ্ছে। তারা উল্লেখ করে, যদি সরকার এই বিষয়গুলোতে সমন্বয় না করে, তবে পুলিশ বাহিনীর ঐতিহ্যবাহী পরিচয় ও পেশাদারিত্বের ওপর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা চাহিদা বিবেচনা করে, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের পরিবর্তে প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে সংস্থা পুনরায় জোর দেয়।
সংক্ষেপে, পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন interim সরকারের ইউনিফর্ম পরিবর্তন পরিকল্পনাকে ‘হড়হড়ে’ এবং অপর্যাপ্ত পরামর্শমূলক বলে সমালোচনা করেছে, এবং ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে কর্মীদের মতামত ও জনপরামর্শকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।



