ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত সার্হি কিসলিটসিয়া, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জেনেভায় এই সপ্তাহের শেষের দিকে আরেকটি রাউন্ডের আলোচনা নির্ধারিত।
কিসলিটসিয়া, যিনি সামরিক-সামরিক স্তরের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, টেবিলে রাশিয়ান প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার মিথস্ক্রিয়া বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের মিটিংগুলো ব্যবসায়িক স্বরূপের এবং মস্কোর প্রচলিত রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক রঙের তুলনায় কম রঙিন।
“সামরিক বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা সম্পর্কে বেশি জানে,” তিনি এক সাক্ষাতে বলেন, যা প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে অনুষ্ঠিত হয়। “রাশিয়ানরা সরাসরি তথ্য প্রদান করতে পারে কিনা, তা আরেকটি বিষয়,” তিনি অতিরিক্তভাবে যোগ করেন, তথ্যের বিকৃতি না করে সরাসরি যোগাযোগের সম্ভাবনা তুলে ধরে।
যুদ্ধের সমাপ্তি সহজ নয়, বিশেষ করে পূর্ব ইউক্রেনের জটিল ভূখণ্ডে। সেখানে হাজার হাজার ড্রোন ঘুরে বেড়ায় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে “ধূসর অঞ্চল” নামে পরিচিত এলাকা গঠিত, যেখানে সংঘর্ষের ঝুঁকি উচ্চ। ডনবাসের “ফোর্ট্রেস বেল্ট” শহরে প্রায় দুই লক্ষ নাগরিক এখনও বসবাস করছেন, যা মানবিক দিক থেকে চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দেয়।
কিসলিটসিয়া বলেন, বিচ্ছিন্নতা প্রক্রিয়ার জন্য স্পষ্ট নিয়ম ও প্রোটোকল প্রয়োজন, পাশাপাশি তা যাচাই ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই দিকের বেশিরভাগ কাজ ইতিমধ্যে অগ্রসর হয়েছে, যার পেছনে মার্কিন সরকারের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে জেনারেল আলেক্সাস গ্রিনকেভিচ, ন্যাটোর ইউরোপীয় শীর্ষ কমান্ডার, এবং ড্যান ড্রিসকোল, মার্কিন সরকারে সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি, বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের উপস্থিতি এবং সমর্থন আলোচনার গতি বাড়াতে সহায়তা করেছে।
কিসলিটসিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। “আমাদেরকে আমেরিকানদের ধৈর্য ও প্রতিশ্রুতির জন্য প্রশংসা করতে হবে, কারণ তারা ক্রমাগত মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছে,” তিনি বলেন, যা দীর্ঘ সময়ের জন্য টেবিলে বসে থাকা প্রতিনিধিদের প্রচেষ্টা তুলে ধরে।
এই মন্তব্যগুলো ইউক্রেনের কূটনৈতিক কৌশলের একটি দিক প্রকাশ করে, যেখানে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমর্থনকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হয়। রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংলাপের মাধ্যমে তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ভুল বোঝাবুঝি কমানো লক্ষ্য।
যদিও রাশিয়ান পক্ষের তথ্য সরবরাহের ক্ষমতা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, কিসলিটসিয়া বিশ্বাস করেন, উভয় পক্ষের সামরিক কর্মকর্তারা বাস্তবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সমানভাবে অবগত। এই পারস্পরিক বোঝাপড়া যুদ্ধের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত তৈরি করতে পারে।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং “ধূসর অঞ্চল”ে চলমান সংঘর্ষের ফলে সিভিলিয়ানদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই কোনো চুক্তি বাস্তবায়নের আগে মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
গেনেভা আলোচনার পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে, উভয় পক্ষের মধ্যে প্রস্তাবিত নিয়মাবলী ও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে। এই রূপরেখা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ইউক্রেনের আলোচক কিসলিটসিয়ার বিবরণে দেখা যায় যে, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান শান্তি টেবিলটি ব্যবসায়িক স্বরূপের, সামরিক-সামরিক সংলাপের ওপর ভিত্তি করে এবং মার্কিন সরকারের সমর্থনে অগ্রসর হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার সফলতা নির্ভর করবে স্পষ্ট নিয়ম, স্বচ্ছ তথ্য আদানপ্রদান এবং মানবিক পর্যবেক্ষণের ওপর।



