নতুন সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (PSA) নতুন ইউনিফর্মের বিরোধিতা জানিয়ে পরিবর্তনের দাবি তুলে ধরেছে। সংস্থাটি জানায় যে অধিকাংশ সদস্যই হঠাৎ নেওয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নয়। এ দাবি সরকারের সিদ্ধান্তের পরই প্রকাশিত হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি জয়লাভ করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠন করে, ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ শেষ হয়। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরই ইউনিফর্ম সংক্রান্ত বিষয়টি আলোচনায় আসে।
অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন পোশাক চালু করার অনুমোদন দেয়। সেই সময়ে সীমিত সংখ্যক সদস্যকে প্রথম পর্যায়ে নতুন ইউনিফর্ম সরবরাহ করা হয়। নতুন পোশাকের রঙ “আয়রন গ্রে” হিসেবে নির্ধারিত হয়, যা পূর্বের নীল-সবুজ রঙের পরিবর্তে ব্যবহার করা হবে।
নতুন ইউনিফর্মের পরিবর্তন মূলত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর পুলিশ সংস্কার প্রস্তাবের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাহিনীর কোনো বড় বিরোধিতা প্রকাশিত হয়নি। নতুন সরকারের অধীনে PSA এই সিদ্ধান্তকে ত্বরিত এবং অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচনা করে।
PSA জানায় যে পুরনো খাকি রঙের পোশাক ২০০৩-২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের গঠিত কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই সময় গায়ের রঙ, আবহাওয়া, রাত-দিনের ডিউটি এবং অন্যান্য বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিবেচনা করা হয়। তাই সদস্যরা এটিকে ঐতিহ্যবাহী এবং পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে দেখে।
সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অধিকাংশ সদস্যই নতুন ইউনিফর্মকে তাড়াহুড়ো করে নেওয়া পরিবর্তন হিসেবে দেখছে এবং তা সমর্থন করে না। তারা বর্তমান (পুরনো) পোশাককে বাংলাদেশের পুলিশ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে। এছাড়া নতুন ইউনিফর্মের খরচকে দেশের আর্থিক অবস্থার জন্য অতিরিক্ত বোঝা হিসেবে তুলে ধরেছে।
PSA আরও উল্লেখ করে যে, জাতীয় নির্বাচনের সময় অধিকাংশ পুলিশ সদস্যই পুরনো পোশাক পরিধান করে কাজ করেছেন। তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন। এই পারফরম্যান্সকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসা করা হয়েছে বলে সংস্থা দাবি করে।
নতুন ইউনিফর্মের পরিবর্তনকে ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। PSA এই বিষয়টি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। তারা আশা করে সরকার পুনর্বিবেচনা করে পুরনো ইউনিফর্মের ব্যবহার চালিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ইউনিফর্ম সংক্রান্ত এই বিতর্ক নতুন সরকারের নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি সরকার PSA-র দাবি মেনে চলে, তবে এটি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, যদি নতুন ইউনিফর্ম চালু থাকে, তবে বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে।
পরবর্তী সপ্তাহে সরকার ও PSA-র মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় পক্ষই ইউনিফর্মের রঙ, খরচ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিনিময় করতে পারে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে নতুন সরকারের নিরাপত্তা নীতি এবং আর্থিক অগ্রাধিকার।
এই বিষয়টি দেশের নিরাপত্তা কাঠামো এবং জনসাধারণের বিশ্বাসের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরকারকে উভয় দিকের মতামত বিবেচনা করে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন।



