যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ফ্লক (Flock) নামের লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরা ভেঙে ফেলা এবং ধ্বংস করার ঘটনা বাড়ছে। এই ক্যামেরাগুলি গাড়ির নম্বর রেকর্ড করে এবং ফেডারেল ইমিগ্রেশন সংস্থার তথ্য সংগ্রহে ব্যবহার করা হয়, যা সম্প্রতি জনসাধারণের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি করেছে। ফ্লক, আটলান্টা ভিত্তিক একটি নজরদারি স্টার্ট‑আপ, এক বছর আগে তার মূল্যায়ন $৭.৫ বিলিয়ন করে, এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার ক্যামেরা স্থাপন করেছে।
ফ্লক ক্যামেরা ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হল গাড়ির চলাচল ট্র্যাক করা, তবে সমালোচকরা দাবি করেন যে এই ডেটা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) সহ ফেডারেল সংস্থার কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। কোম্পানি সরাসরি ICE-কে ডেটা শেয়ার না করার কথা বললেও, স্থানীয় পুলিশ বিভাগগুলো নিজেদের অ্যাক্সেস দিয়ে ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে তথ্য ভাগ করে নেওয়ার রেকর্ড পাওয়া গেছে। ফলে, ইমিগ্রেশন নীতি কঠোর করার সময়, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গৃহস্থালির সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ বাড়ছে।
কয়েকটি শহরে ফ্লক ক্যামেরা নিয়ে চুক্তি বাতিলের দাবি উঠেছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার এখনও এই সেবা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার লা মেসা শহরে, শহর পরিষদ ফ্লক ক্যামেরা চালু রাখার অনুমোদন দেয়ার পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ক্যামেরা ভাঙা ও ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। সভায় উপস্থিত অধিকাংশ নাগরিক ক্যামেরা বন্ধের পক্ষে ভোট দিলেও, শেষ পর্যন্ত অনুমোদন টিকিয়ে রাখা হয়। স্থানীয় প্রতিবাদকারীরা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
লা মেসার পাশাপাশি কনেকটিকাট, ইলিনয় এবং ভার্জিনিয়ার কিছু শহরেও একই রকম ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। ওরেগনে ছয়টি লাইসেন্স প্লেট স্ক্যানিং ক্যামেরা কুঁচিয়ে ফেলা হয় এবং কমপক্ষে একটি ক্যামেরার ওপর স্প্রে পেইন্ট দিয়ে বিদ্রূপমূলক নোট লেখা হয়। সেই নোটে লেখা ছিল, “হাহা, ধ্বংস হয়ে যাও, তুমিই নজরদারি করো”—যা প্রতিবাদকারীদের ক্রোধকে প্রকাশ করে।
ডি‑ফ্লক (DeFlock) নামে একটি স্বতন্ত্র প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮০,০০০টি লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরা স্থাপিত হয়েছে। এই সংখ্যা দেশব্যাপী বিভিন্ন শহর ও কাউন্টিতে ছড়িয়ে রয়েছে, এবং কিছু শহর ইতিমধ্যে ফ্লক-এর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে এখনও অনেক স্থানীয় সরকার এই প্রযুক্তি ব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও জনমত স্পষ্টভাবে গোপনীয়তা রক্ষার পক্ষে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, লাইসেন্স প্লেট রিডার সিস্টেমের বিস্তার গাড়ি চলাচল বিশ্লেষণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে, তবে ডেটা শেয়ারিং নীতি স্পষ্ট না হলে তা নাগরিকের মৌলিক গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ায়। ফ্লক কোম্পানি দাবি করে যে তাদের সিস্টেম শুধুমাত্র অনুমোদিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্যই অ্যাক্সেসযোগ্য, তবে বাস্তবে স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময়ের রেকর্ড এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিভিন্ন নাগরিক গোষ্ঠী ও গোপনীয়তা সুরক্ষা সংস্থা ফ্লক ক্যামেরা অপসারণের জন্য আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা দাবি করে যে, অবৈধ ডেটা শেয়ারিং এবং গোপনীয়তা রক্ষার জন্য স্পষ্ট নীতি না থাকলে, এই ধরনের নজরদারি প্রযুক্তি জনসাধারণের বিশ্বাস হারাবে। একই সঙ্গে, কিছু শহরের মেয়র ও কাউন্সিল সদস্যরা ফ্লক ক্যামেরা চালু রাখার পক্ষে যুক্তি দেন, যে এই সিস্টেম ট্রাফিক নিরাপত্তা ও অপরাধ হ্রাসে সহায়তা করে।
সারসংক্ষেপে, ফ্লক ক্যামেরা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহস্থালির সম্প্রদায়ের মধ্যে গোপনীয়তা ও সরকারী নজরদারির মধ্যে তীব্র সংঘাত দেখা দিচ্ছে। ক্যামেরা ধ্বংসের ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, শহরগুলোকে নীতিগত দিক থেকে স্পষ্টতা আনতে এবং ডেটা শেয়ারিং প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে হবে। না হলে, প্রযুক্তি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে এই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।



