কানাডার মন্ট্রিয়ালকে পটভূমি করে তৈরি ‘দ্য গার্ল হু ক্রাইড পার্লস’ নামের অ্যানিমেটেড স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি ক্রিস ল্যাভিস ও মেসিয়েক শচেরবস্কি পরিচালিত। এই কাজটি ২০২৬ সালের অস্কার ও অ্যানি পুরস্কারের শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভাগে মনোনীত হয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত ‘স্নো বেয়ার’ জয়ী হয়।
ল্যাভিস ও শচেরবস্কি স্টপ-মোশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলচ্চিত্রটি রচনা করেছেন। সেটের জন্য তারা শহরের রাস্তার ধ্বংসাবশেষ, ভাঙা কাচ, পুরনো ধাতু ইত্যাদি সংগ্রহ করে ক্ষুদ্র স্কেল মডেল তৈরি করেন। এই উপকরণগুলোকে বাস্তবিক টেক্সচার হিসেবে ব্যবহার করা হলে দর্শকের মনের মধ্যে কৃত্রিমতার ছাপ কমে যায় এবং ছবিটি আরও জীবন্ত মনে হয়।
চিত্রনাট্যটি ২০শ শতকের শুরুর মন্ট্রিয়াল ও বর্তমান সময়ের মিশ্রণকে তুলে ধরে। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এক গরিব ছেলে, যে একটি দুঃখে ভরা মেয়ের চোখের অশ্রু থেকে মুক্তা তৈরি হয় তা দেখে, সেগুলো সংগ্রহ করে পনিব্রোকারের কাছে বিক্রি করে। শেষ পর্যন্ত তাকে প্রেম ও সম্পদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই আবেগময় মোড় চলচ্চিত্রের মূল আকর্ষণ হিসেবে কাজ করে।
সেটের আলো প্রকৃত সূর্যালোকে নয়, বরং কৃত্রিম আলোর মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। নির্মাতারা উল্লেখ করেন, বাস্তবিক উপকরণ ব্যবহার করলে দর্শকের মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কৃত্রিমতার সীমা অতিক্রম করে, ফলে ছবিটি বাস্তবের মতো অনুভূত হয়। এই পদ্ধতি চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল প্রভাবকে শক্তিশালী করে এবং স্টপ-মোশন শৈলীর রোমান্সকে রক্ষা করে।
চিত্রটি কানাডার ন্যাশনাল ফিল্ম বোর্ডের সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে। হাতে তৈরি পাপেটের মুখের নড়াচড়া ও ডায়ালগের সিঙ্ক্রোনাইজেশন নিশ্চিত করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। মুখের অংশগুলোকে কম্পিউটার-সৃষ্ট নয়, বরং হাতে তৈরি পাপেটের সঙ্গে মিশিয়ে স্বাভাবিক দেখাতে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে, যাতে দর্শককে কৃত্রিমতার অনুভূতি না হয়।
পাপেটের চেহারাকে কাঠের গুঁড়ি থেকে আলাদা করতে, নির্মাতারা অতিরিক্ত টেক্সচার ও রঙের স্তর যোগ করে চরিত্রগুলোকে জীবন্ত রূপ দেন। ফলে পাপেটগুলো কেবল কাঠের গুঁড়ি নয়, বরং বাস্তবিক উপকরণে মোড়ানো চরিত্র হিসেবে উপস্থাপিত হয়। এই সূক্ষ্ম কাজটি চলচ্চিত্রের সামগ্রিক গুণগত মানকে বাড়িয়ে তুলেছে।
‘দ্য গার্ল হু ক্রাইড পার্লস’ অস্কার ও অ্যানি পুরস্কারের মনোনয়নে পৌঁছানোর পরেও, এটি ‘স্নো বেয়ার’ দ্বারা পরাজিত হয়। তবুও চলচ্চিত্রটি শিল্পের নীতি ও পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশংসিত হয়েছে, কারণ এটি কম মূল্যের উপকরণকে উচ্চমানের শিল্পকর্মে রূপান্তরিত করার উদাহরণ প্রদান করে।
এই প্রকল্পটি দেখায় যে, সৃজনশীলতা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের সমন্বয় দিয়ে আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মাণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে আরও চলচ্চিত্রশিল্পী যদি এই ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করেন, তবে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং শিল্পের নান্দনিকতা দুটোই সমৃদ্ধ হবে।
চলচ্চিত্রের সাফল্য ও প্রযুক্তিগত দিকগুলোকে বিবেচনা করে, শিল্পের তরুণ প্রযোজক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি মূল্যবান রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সৃজনশীলতার সমন্বয়কে উৎসাহিত করে, ‘দ্য গার্ল হু ক্রাইড পার্লস’ আধুনিক অ্যানিমেশন জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



