প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ঘাটতি দূর করতে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস, বাড়ির কাজের সমন্বয় এবং বিশেষ মনোযোগের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করা।
সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীরা এক শ্রেণি থেকে আরেক শ্রেণিতে অগ্রসর হলেও কাঙ্ক্ষিত মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অধিদপ্তরের নীতি ও অপারেশন উইংয়ের পরিচালক এ কে মোহাম্মদ সামসুল আহসান জানিয়েছেন, গত নভেম্বর মাসে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপর চূড়ান্ত মূল্যায়ন এবং ডিসেম্বর মাসে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির উপর তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন করা হয়। এই দুই ধাপের ফলাফলে যেসব শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন করতে পারেনি, তাদের উন্নতির জন্য এই নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোকে প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষকবৃন্দকে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীর দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সেসব বিষয়ে অতিরিক্ত ক্লাস এবং লক্ষ্যভিত্তিক বাড়ির কাজের সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রধান শিক্ষকদেরকে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হলে শিক্ষার্থীর শিক্ষার গতি ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অধিদপ্তর এছাড়াও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদেরকে নির্দিষ্ট তিনটি স্কুলের নমুনা নির্বাচন করে পরিকল্পনার কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য উপস্থাপন করতে বলেছে। এই নমুনা স্কুলগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুরো দেশের জন্য নীতি সমন্বয় করা হবে।
কিছু স্কুল ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মসূচি তৈরি করেছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সেশন চালু করেছে। এসব স্কুলের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং ফলাফল উন্নত করতে সহায়ক।
প্রয়োগের সময়সূচি অনুযায়ী, অতিরিক্ত ক্লাস এবং বিশেষ মনোযোগের ব্যবস্থা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে। শিক্ষকবৃন্দকে নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ফোকাস করে পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং তা অভিভাবকদের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে।
অধিদপ্তরের লক্ষ্য হল, তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নের পরের ছয় মাসের মধ্যে অধিকাংশ পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীকে কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছানো। সফল বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক, অভিভাবক এবং প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
অভিভাবকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: বাড়িতে শিক্ষার্থীর দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন এবং স্কুলের অতিরিক্ত ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন। এভাবে শিক্ষার্থীর শেখার গতি বাড়বে এবং পরীক্ষার ফলাফল উন্নত হবে।
আপনার সন্তান কি এই নতুন পরিকল্পনার আওতায় পড়ে? স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত ক্লাস ও সমন্বয়মূলক কাজের বিস্তারিত জানুন এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করুন।



