সমালোচকরা সম্প্রতি দুটি জনপ্রিয় কাজ—যহু টেবিল‑টেনিস হাস্টলার চলচ্চিত্র ‘Marty Supreme’ এবং সমলিঙ্গী হকি সিরিজ ‘Heated Rivalry’—কে স্টেরিওটাইপের পুনরাবৃত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। উভয়ই স্পোর্টস‑শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হলেও তাদের বিষয়বস্তু ও চরিত্রে দীর্ঘদিনের পূর্বধারণা পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে।
‘Marty Supreme’ হলিউডের জোশ সাফডির পরিচালিত একটি চলচ্চিত্র, যা অস্কার প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। গল্পটি একটি যহু টেবিল‑টেনিস হাস্টলারকে কেন্দ্র করে, যাকে মুনাফার জন্য কোনো সীমা অতিক্রম করতে ইচ্ছুক শয়তানী চরিত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে। মর্তি তার সহকর্মীকে গুলির হুমকিতে ফাঁসিয়ে দেয় এবং অশোয়িৎসের বিষয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করে দর্শকদের শক দেয়।
সাফডি নিজেই যহু সম্প্রদায়ের সদস্য, তাই চরিত্রের নেতিবাচক চিত্রায়নকে কিছু সমালোচক গোষ্ঠী অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখেছে। তারা উল্লেখ করেন যে মর্তি কোনো সংস্কৃতিগত রঙিনতা, নিউরোটিক হাস্যরস বা ইডিশ ভাষার ব্যবহার দেখায় না, বরং একধরনের লোভী ও মিথ্যাবাদী শয়তানী হিসেবে চিত্রিত হয়েছে।
‘Heated Rivalry’ হল জেকব টিয়ারনির সৃষ্ট টেলিভিশন সিরিজ, যা সমলিঙ্গী হকি খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। প্রধান চরিত্র ইলিয়া রোজানোভ এবং শেইন হোল্যান্ডার দুজনই শারীরিকভাবে শক্তিশালী, তবে তাদের সম্পর্ককে শূন্য সংযুক্তি ও স্বার্থপর যৌনতার মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে। সিরিজে তাদের কথোপকথন প্রায়ই শেষ নাম দিয়ে হয়, যা তাদেরকে অর্ধ‑ব্রো ও অর্ধ‑হো হিসেবে উপস্থাপন করে।
টিয়ারনি নিজেই সমলিঙ্গী, ফলে এই চরিত্রায়নকে অভ্যন্তরীণ স্টেরিওটাইপের পুনরাবৃত্তি হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে। সমালোচকরা বলেন, ইলিয়া ও শেইন কোনো সংবেদনশীলতা, স্টাইল বা সৃজনশীলতা প্রদর্শন করে না; বরং তারা আত্মমুগ্ধতা ও অবিবেচনাপূর্ণ যৌনতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
উভয় কাজের সমালোচকরা জোর দিয়ে বলেন যে এই স্টেরিওটাইপগুলো দীর্ঘদিনের সামাজিক বৈষম্যের অংশ। ‘Marty Supreme’ এ যহু চরিত্রকে লোভী ও ধোঁকাবাজ হিসেবে দেখানো, এবং ‘Heated Rivalry’ তে সমলিঙ্গী পুরুষদেরকে শূন্য সংযুক্তি ও আত্মমুগ্ধতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা, উভয়ই ঐ সম্প্রদায়ের জন্য ক্ষতিকারক রূপে কাজ করে।
‘Marty Supreme’ এ মর্তির আচরণ বিশেষভাবে বিতর্কিত। তিনি সহকর্মীর বেতন নিয়ে গুলির হুমকি দেন, এবং অশোয়িৎসের উপর করা বিদ্রূপমূলক মন্তব্যকে সমালোচকরা অশোভন ও অনুপযুক্ত বলে চিহ্নিত করেছেন। এই ধরনের দৃশ্যগুলোকে ঐতিহাসিক কষ্টের প্রতি অবহেলা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
‘Heated Rivalry’ তে ইলিয়া ও শেইনের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদী সংযুক্তি ছাড়া একধরনের স্বল্পমেয়াদী, শারীরিক সংযোগ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কোনো আবেগীয় গভীরতা নেই; তারা কেবল শারীরিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে একে অপরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। এই চিত্রায়নকে সমলিঙ্গী সম্পর্কের বৈচিত্র্যকে হ্রাসকারী হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, উভয় কাজের স্রষ্টা নিজেই তাদের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, যা সমালোচকদের মতে একটি দ্বৈত মানদণ্ড তৈরি করে। তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ পরিচয়কে ব্যবহার করে স্টেরিওটাইপকে পুনরায় শক্তিশালী করার জন্য দায়ী বলে বিবেচিত হয়।
এই দুই কাজের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ সত্ত্বেও, উভয়ই বক্স অফিস ও দর্শকসংখ্যা দিক থেকে সফল হয়েছে। তবে সমালোচকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে বাণিজ্যিক সাফল্য স্টেরিওটাইপের ক্ষতিকারক প্রভাবকে ন্যায়সঙ্গত করে না। ভবিষ্যতে নির্মাতাদের উচিত আরও সূক্ষ্ম ও বহুমাত্রিক চরিত্রায়ন করা, যাতে কোনো সম্প্রদায়কে একক দৃষ্টিকোণ থেকে সীমাবদ্ধ না করা হয়।
পাঠকদের জন্য পরামর্শ, এই ধরনের কাজ দেখার সময় চরিত্রের উপস্থাপনাকে সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। স্টেরিওটাইপের পুনরাবৃত্তি সামাজিক ধারণাকে গঠন করে, তাই দর্শক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হল সঠিক ও বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনাকে সমর্থন করা।



