টুইটি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ‑১ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ২৫৪ রান করে জিম্বাবুয়েকে ১০৭ রানে পরাজিত করেছে। এই জয়ের ফলে দলটি গ্রুপের শীর্ষে উঠে, দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় এবং ভারতের নেট রান রেট –৩.৮০০ রেখে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, আর জিম্বাবুয়ে -৫.৩৫০ রেটের সঙ্গে শেষ অবস্থানে নেমে এসেছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং শুরু থেকেই মসৃণ ছিল। ওপেনারদের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে মাঝামাঝি পর্যায়ে হেটমায়ার ৮৫ রান তৈরি করে টিমের মোট স্কোরের অর্ধেকের বেশি যোগ করেন। তার সঙ্গে পাওয়েল ৫৯ রান যোগ করে ১২০‑এর বেশি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন, যা টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ ১২২‑রানের পার্টনারশিপ। হেটমায়ারের ৫০ রান দ্রুততম অর্ধশতক হিসেবে রেকর্ড হয়, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের টুইটি২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ফিফটি।
বাটারিং দিক থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার মুজারাবানি ২ উইকেট নিয়ে ৪২ রান দিলেন, আর রাইট-আর্মার রিচার্ড এনগারাভা ২ উইকেটের সঙ্গে ৪৭ রান conceded করেন। উভয়ের সমন্বয়ে দলটি জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংকে সীমাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়।
জিম্বাবুয়ের ইনিংস শুরুতে দ্রুত গতি পায় না। দশম উইকেটে রিচার্ড এনগারাভা এবং ব্র্যাড ইভান্সের ১৯ রানের জুটি দেখা যায়, যেখানে ইভান্সের ৩৫ রানই ব্যাট থেকে আসে এবং শেষ পর্যন্ত ৪৩ রান করে দলকে কিছুটা সান্ত্বনা দেয়। তবে শীঘ্রই স্পিনার আকিল হোসেন (৩ উইকেট) ও গুরাকেশ মোতি (৪ উইকেট) ধারাবাহিকভাবে আউট করে দলকে ১০৭ রানের বড় ব্যবধানে রাখে।
জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ইভান্স ৪৩, মায়ার্স ২৮ এবং রাজা ২৭ রান করে সর্বোচ্চ স্কোর করেন। তবে তাদের মোট স্কোর ১৭.৪ ওভারে ১৪৭ রানেই সীমাবদ্ধ থাকে। শেষের দিকে রাজা ও মুসেকিওয়া ধারাবাহিকভাবে দুই করে রান যোগ করলেও দলটি ১০২ রানেই আটটি উইকেট হারিয়ে শেষ করে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের আক্রমণে ১৯টি ছক্কা মারার রেকর্ড নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সমান হয়ে টুইটি২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছক্কা সংখ্যা অর্জন করে। এই শক্তিশালী হিটিং ক্ষমতা দলকে দ্রুত স্কোর বাড়াতে সহায়তা করে এবং শেষ পর্যন্ত ২৫৪/৬ স্কোরে থামতে বাধ্য করে।
ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে হেটমায়ারকে ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় (Man of the Match) ঘোষণা করা হয়। তার ৮৫ রান এবং দ্রুত অর্ধশতক অর্জন দলকে জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই জয়ের ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গ্রুপ‑১‑এ শীর্ষে উঠে, যা তাদের পরবর্তী ম্যাচে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। পরবর্তী রাউন্ডে দলটি একই গ্রুপের অন্য দুই দলের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যেখানে রান রেটের পার্থক্য আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জিম্বাবুয়ের জন্য এই পরাজয় বড় ধাক্কা, তবে দলটি এখনও টুর্নামেন্টের বাকি অংশে পুনরুদ্ধারের সুযোগ পেতে পারে। স্পিনারদের সফলতা এবং ব্যাটসম্যানদের মাঝারি পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ ম্যাচে উন্নতির সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
টুইটি২০ বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে দলগুলোর পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী রাউন্ডের শেডিউল নির্ধারিত হবে, এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের শীর্ষস্থানীয় অবস্থান তাদেরকে গ্রুপের শীর্ষে পৌঁছানোর পথে এক ধাপ এগিয়ে রাখবে।



