বাংলাদেশ সরকার সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত নয়জন সিনিয়র সচিব ও সচিবের পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার প্রশাসনিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্য প্রকাশ করেছে।
বাতিলকৃত পদগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) এ এম আকমল হোসেন আজাদ, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ইউসূফ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক বেগম শরিফা খান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সিনিয়র সচিব) সিদ্দিক জোবায়ের, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) মো. মোখলেস উর রহমান এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য কাইয়ুম আরা বেগম।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অফিস আদেশ শিগগিরই কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের পদ থেকে অবিলম্বে অব্যাহতি পাবেন। বাতিলকৃত নিয়োগগুলো মূলত পরিকল্পনা, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়ন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে ছিল।
একই দিনে, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবকে তাদের বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই পদক্ষেপগুলোও শীঘ্রই কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই প্রশাসনিক পরিবর্তনের পটভূমি হল ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করা। নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বিএনপি-ভিত্তিক সরকার প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে এবং তার নীতি বাস্তবায়নের জন্য জনসেবা সংস্থার নেতৃত্ব পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল এবং সচিবদের পুনর্বিন্যাস এই কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিপক্ষের কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের দ্রুত পদক্ষেপগুলো সরকারকে তার কর্মসূচি দ্রুত চালু করতে সহায়তা করবে, তবে একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও নীতি ধারাবাহিকতায় কিছু চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করতে পারে।
বাতিলকৃত পদগুলোর মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও উচ্চপদস্থ সচিবদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও নীতি প্রণয়নে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে সরকার এই পরিবর্তনগুলোকে স্বল্পমেয়াদে সমন্বয় করে কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সচিবদের পুনর্বিন্যাসের ফলে তারা এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করবেন, যা প্রশাসনিক নির্দেশনা ও তদারকি একত্রিত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়াতে পারে। এই কাঠামো পরিবর্তন ভবিষ্যতে নীতি বাস্তবায়ন ও তদারকি প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে পারে।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে কোনো কারণ উল্লেখ না করলেও, নতুন সরকারের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করে এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক পুনর্গঠনকে সরকার তার শাসনকালের প্রথম মাসে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, সরকার আরও অতিরিক্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সমন্বয় সাধন করতে পারে, যাতে নতুন নীতি ও কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়। এই ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, ৯জন সিনিয়র সচিব ও সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল এবং একই দিনে অন্যান্য সচিবদের পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার তার প্রশাসনিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করছে, যা নতুন সরকারের নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



