প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন, সরকার সূত্রে জানানো হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১৩টি জেলার এক‑একটি ওয়ার্ডে এই প্রকল্প চালু হবে এবং স্থানীয় স্তরে কমিটি গঠন করে বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা হবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হয়ে কার্ডের গুরুত্ব ও লক্ষ্য তুলে ধরবেন। প্রতিটি কমিটির প্রধান হিসেবে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে, যাতে বিতরণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হয়।
প্রকল্পের সূচনা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় জানানো হয়েছিল যে, প্রথমে দুটি উপজেলায় পাইলট চালু করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তীতে পরিকল্পনা বিস্তৃত করে ১৩টি উপজেলায় ১৩টি ওয়ার্ডে একসাথে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারকে সমন্বিত সহায়তা প্রদান করা হবে। এ লক্ষ্যে ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে নীতি নির্ধারণ করেছে।
উপকারভোগী নির্বাচন মূলত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হবে। আর্থিক তথ্যের অভাবের কারণে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা জানিয়েছেন যে, বর্তমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলিতে প্রায় অর্ধেক লক্ষ্যভিত্তিক ত্রুটি রয়েছে, যার ফলে অর্থের অপচয় ঘটছে। ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে একাধিক ভাতা ও সুবিধা একত্রিত করে এই ত্রুটি কমানো সম্ভব হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর মতে, প্রতিটি কার্ডে সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড প্রদান করা হবে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা না পায়। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাপ্য সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রথম ধাপে বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এই এলাকাগুলোকে পাইলট হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা যায়।
উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গঠিত কমিটি পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগীর চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করবে। তহবিল ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাবে, যাতে বিতরণে কোনো ধীরগতি না হয়।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নারীরা পরিবারপ্রধান হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড পেতে পারবেন, যা লিঙ্গ সমতা ও নারীর অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনকে উৎসাহিত করবে।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পেনশন ও অন্যান্য সামাজিক সেবার একীভূত প্রদান সম্ভব হবে, ফলে দরিদ্র পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমবে বলে সরকার আশাবাদী। পরবর্তী ধাপে বাকি জেলার ওয়ার্ডে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে পুরো দেশজুড়ে এই সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন ও ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে সরকার ভবিষ্যতে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।



