ব্রাইটন ও হ্যাম স্পারসের মিডফিল্ডার জেমস মিলনার, ৪০ বছর বয়সে, শনিবারের ব্রাইটন‑ব্রেন্টফোর্ড ম্যাচে ৬৫৪তম প্রিমিয়ার লীগ উপস্থিতি অর্জন করে গ্যারেথ ব্যারির ৬৫৩ ম্যাচের রেকর্ডকে অতিক্রম করেছেন। এই সংখ্যা তাকে সর্বকালের সর্বোচ্চ উপস্থিতিকারী খেলোয়াড়ের তালিকায় শীর্ষে নিয়ে এসেছে।
মিলনারের প্রিমিয়ার লীগ যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে, যখন তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে লিডসের হয়ে ডেবিউ করেন। সেই ম্যাচে তিনি ৮৪তম মিনিটে জেসন উইলকক্সের পরিবর্তে মাঠে নামেন; উইলকক্স বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিরেক্টর অফ ফুটবল হিসেবে কাজ করছেন। লিডসের সেই জয়ী ম্যাচে ওয়েস্ট হ্যামকে পরাজিত করা হয়েছিল, যেখানে হ্যারি কিউয়েল, নিক বার্মবি ও মার্ক ভিদুকা গোল করেন।
এরপরের দুই দশকে মিলনার ছয়টি ক্লাবে খেলেছেন, যার মধ্যে লিডস, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, এভারটন, সাউদাম্পটন, লিভারপুল এবং সর্বশেষে ব্রাইটন অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘায়ু, শৃঙ্খলা ও কম ঝুঁকিপূর্ণ জীবনধারা তাকে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ স্তরে রাখে। তার ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি প্রায়ই দলের গঠন ও গতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যদিও তিনি প্রায়ই দৃষ্টিগোচর না হয়ে কাজ সম্পন্ন করেছেন।
মিলনারের মোট উপস্থিতি রেকর্ড যদিও ভাঙলেও, তিনি মোট খেলা মিনিটে শীর্ষ দশে স্থান পাননি। গ্যারেথ ব্যারির মোট মিনিট ১৩,৮৭৪ বেশি, যা প্রায় ১৫৪টি পূর্ণ ম্যাচের সমান। ব্যারির এই মিনিটের পার্থক্য মিলনারকে শীর্ষ দশের বাইরে রাখে, যদিও উপস্থিতি সংখ্যা তার পক্ষে। এই পার্থক্যটি প্রমাণ করে যে মিলনারের বেশিরভাগ সময় তিনি পরিবর্তনশীল খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন।
প্রতিষ্ঠিত রেকর্ডের পাশাপাশি, মিলনারের বেঞ্চে কাটানো সময়ও নজরকাড়া। তিনি প্রিমিয়ার লীগে ২০০টিরও বেশি ম্যাচে পরিবর্তনশীল হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা। এই রেকর্ডটি তার বহুমুখিতা ও দলের প্রয়োজন মেটাতে প্রস্তুত থাকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
ব্রাইটনের বর্তমান কোচ ফ্যাবিয়ান হুরজেলার, যিনি মিলনারের বর্তমান গ্যাফার, তাকে দলের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের মূলধন হিসেবে ব্যবহার করছেন। হুরজেলার, যিনি তরুণ বয়সে ফুটবলের মৌলিক বিষয় শিখেছিলেন, এখন মিলনারের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে সমর্থন ও পরিচালনা করছেন। মিলনারের উপস্থিতি ও প্রশিক্ষণ শৃঙ্খলা এখনও তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য উদাহরণস্বরূপ।
সপ্তাহের ম্যাচে ব্রাইটন‑ব্রেন্টফোর্ড মুখোমুখি হওয়ার সময় মিলনারের রেকর্ড ভাঙা ঘটেছে। যদিও ম্যাচের ফলাফল মূল নিবন্ধে উল্লেখ নেই, তবে এই উপস্থিতি তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
মিলনারের এই সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী ফিটনেস, পেশাদারিত্ব ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফল। তিনি এখনও শারীরিকভাবে ফিট এবং ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে দলের জন্য মূল্যবান অবদান রাখছেন। তার উদাহরণ তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘায়ু ক্যারিয়ার গড়ার পথ দেখায়।
প্রিমিয়ার লীগ কর্তৃপক্ষ এই নতুন রেকর্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে গ্যারেথ ব্যারির মিনিটের রেকর্ড এখনও অক্ষত রয়ে গেছে। মিলনারের উপস্থিতি সংখ্যা ও বেঞ্চে খেলা রেকর্ড দুটোই এখন লিগের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।
মিলনারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা অবসর সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও, তিনি বর্তমান মৌসুমে ব্রাইটনের সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাচ্ছেন। তার উপস্থিতি ও অভিজ্ঞতা দলকে কৌশলগতভাবে সমর্থন করে চলেছে, যা লিগের প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



