বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) উদ্বোধনী ম্যাচে উত্তরাঞ্চল দল শীতল শৈলীতে পূর্বাঞ্চলকে ৫৪ রানে পরাজিত করে। গেমটি বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবং উত্তেজনা শীর্ষে পৌঁছায় যখন আকবর আলি তার প্রথম সেঞ্চুরি তৈরি করেন। এই সেঞ্চুরি দলকে ৩৩০ রানের কাছাকাছি স্কোরে পৌঁছে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত ৩৩৫ রান গঠন করে।
আকবর আলি ৮৭ বলের ইনিংসে ৮৭ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে আটটি চতুর্থ এবং ছয়টি ছক্কা ছিল। তার সঙ্গে তানজিদ হোসেন ও নাজমুল হোসেন শান্তরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন; দুজনের সংযোজনের ফলে উত্তরাঞ্চল ৫০ ওভারে ৩৩৫ রান সম্পন্ন করে। তানজিদের আক্রমণাত্মক পদ্ধতি তাকে ৩৭ বলে পঞ্চাশ রান এনে দেয়, আর শান্তরের স্থিতিশীলতা তাকে ৬৪ বলে পঞ্চাশ রান করতে সাহায্য করে।
উত্তরাঞ্চলের ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহাগ টস হারের পর তৃতীয় ওভারে দু’টি ছক্কা ও একটি চতুর্থে আউট হন, যা শুরুরই ঝাঁকুনি দেয়। তবু তানজিদ ও শান্তরের ৮২ রানের জুটি দলকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যায়, তবে ৪৪ রানে তাদের অংশীদারিত্ব শেষ হয়। পরবর্তী ওভারে লিটন কুমার দাস ২৪ বলে ১০ রান এবং তাওহিদ হৃদয় মাত্র দুই বলে আউট হন, ফলে ১৬ ওভারের মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে দলটি সংকটে পড়ে।
এই মুহূর্তে আকবর আলি আক্রমণে ফিরে আসেন এবং ক্যাপ্টেন শান্তরের সঙ্গে ১২০ রানের স্থায়ী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। শান্তরের অবদান ৩৮ রান হলেও, আকবরের আক্রমণাত্মক শৈলী দলকে দ্রুত ৩০০ রানের সীমা অতিক্রম করতে সাহায্য করে। তার আক্রমণ ৫৩ বলের মধ্যে পঞ্চাশ রান গড়ে তোলার পর দ্রুতই ২৮ বলেই অতিরিক্ত রানের পরিমাণ যোগ করে, যা দলকে বিশাল স্কোরে পৌঁছে দেয়।
মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের পারফরম্যান্সও উল্লেখযোগ্য; তিনি মাত্র ১০ ওভারে ৯৮ রান সংগ্রহ করেন, যা উত্তরাঞ্চলের মোট স্কোরে বড় ভূমিকা রাখে। একই সময়ে তিনি ৫২ রানে চারটি উইকেট নেন, যা তার চতুর্থ চার উইকেটের তালিকায় যুক্ত করে। পূর্বাঞ্চল এই বিশাল লক্ষ্যপূরণে যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেনি, যদিও মুমিনুল ৮৩ বলে ৮২ রান করে চেষ্টা করেন এবং নাঈম হাসান নম্বর ৯-এ পঞ্চাশ রান করেন।
উত্তরাঞ্চলের শেষের দিকে অতিরিক্ত রানের যোগে দলকে ৩৩৫ রান সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। শেষের অংশে আবদুল গাফফার সাকলাইনের ১০ বলে ১৭ রান এবং শরিফুলের ১২ বলে ২০ রান দলকে চূড়ান্ত স্কোরে পৌঁছে দেয়। শীর্ষে থাকা শান্তর আবার ৮৭ বলে ৬৮ রান যোগ করেন, তবে এসএম মেহেরব ও রিশাদ হোসেনের পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত মাত্রা পূরণ করতে পারেনি।
উত্তরাঞ্চলের এই জয় দলকে শীতল শৈলীতে শুরুরই সূচনা দেয়, এবং পরবর্তী ম্যাচে দলটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য রাখবে। বিসিএল-এর পরবর্তী রাউন্ডে উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল আবার মুখোমুখি হবে, যেখানে উভয় দলে শীর্ষ পারফরম্যান্সকারী খেলোয়াড়দের অবদান পুনরায় পরীক্ষা করা হবে।



