20.8 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবান্দরবানে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৬ জনের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

বান্দরবানে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৬ জনের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

বান্দরবানের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামকে ১১ জন ছাত্র ও ৫ জন কর্মচারীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা এবং কর্মচারীরা জানিয়েছেন যে শিক্ষক তাদেরকে পাশের গ্যারান্টি ও স্থায়ী চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে এই অপরাধ করেছেন।

শিকাগুলোতে বলা হয়েছে, সিরাজুল ইসলাম নিজের বিশ্রাম কক্ষে শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করতেন এবং যদি তারা প্রতিরোধ করে তবে তাদের শিক্ষাজীবন নষ্ট করার হুমকি দিয়ে গোপন রাখতে বাধ্য করতেন। একইভাবে, কর্মচারীরা জানান যে অফিসের নিয়মিত সময়ের পরে শিক্ষক তাদেরকে নিজের কক্ষে ডেকে, দরজা-জানালা বন্ধ করে অনুপযুক্ত আচরণ করতেন এবং চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে বাধ্য করতেন।

১০ ফেব্রুয়ারি, জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে দুইজন শিক্ষার্থী ও দুইজন অভিভাবক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নাম গোপন রাখার শর্তে বিস্তারিত বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। মানবাধিকার কর্মী ডনাই প্রু নেলীও উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি উল্লেখ করেন যে শিক্ষক দরিদ্র পরিবারের দুর্বল শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করে এই কাজটি করেছেন।

অভিযোগকারী ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী প্রথমে ভয় ও লজ্জার কারণে পরিবারকে জানাতে পারেনি। তবে লিখিত অভিযোগ দাখিলের পর তিনি ডিসি-কে পুরো ঘটনা জানিয়ে দেন। একইভাবে, ৯ম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীও শিক্ষাজীবন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দীর্ঘদিন গোপন রাখার কথা স্বীকার করেন।

একজন শিক্ষার্থীর বাবা জানান, তার ছেলে শিক্ষায় দুর্বল এবং নবম শ্রেণিতে পাঁচটি বিষয়ে খারাপ ফলাফল করার ফলে দশম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়নি। বাবা যখন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করেন, শিক্ষক নিজে ছাত্রকে পড়াতে প্রস্তাব দেন। এরপর ছেলেটি সন্ধ্যায় শিক্ষককে পাঠাতে শুরু করে এবং ভাল পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দশম শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি পান।

অন্য এক শিক্ষার্থীর দাদা বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি নাতিকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়েছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর শিক্ষক কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার সময় নাতির মুখে ভয় ও আতঙ্কের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। এই ঘটনাটি নাতির মানসিক অবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

বিদ্যালয়ের অস্থায়ী কর্মচারীও একই রকম অভিযোগ তুলে ধরেন যে, অফিসের সময় শেষ হওয়ার পরে শিক্ষক তাদেরকে নিজের কক্ষে ডেকে, দরজা-জানালা বন্ধ করে অনুপযুক্ত আচরণ করতেন এবং চাকরি হারানোর হুমকি দিয়ে বাধ্য করতেন।

ডিসি-কে দাখিল করা অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশকে FIR দায়ের করতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে, এ ধরনের অভিযোগে অপরাধীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনটি মোট ১০ জন শিক্ষার্থী এবং ৩ জন কর্মচারীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে প্রস্তুত করা হয়েছে। সকল ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

এই মামলায় তদন্তের অগ্রগতি এবং আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। একই সঙ্গে, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে মানসিক সহায়তা ও আইনি পরামর্শ প্রদান করার জন্য স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, সকল প্রমাণ সংগ্রহ করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments