প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার সোমবার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি আর এই সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো ব্যবহার করবেন না। এই পদক্ষেপের পেছনে তথ্যের সঠিকতা ও জনসাধারণের বিভ্রান্তি রোধের ইচ্ছা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আবদুস সাত্তার নিম্নলিখিত বক্তব্য দেন: “দেশের সর্বসাধারণ ও সকল মিডিয়াকে জানাচ্ছি যে, আমি এবিএম আবদুস সাত্তার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং উক্ত অ্যাকাউন্টসমূহ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন: “এমন অবস্থায় আমার নাম ও পদবি ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে বিভ্রান্তি, অসংগতিপূর্ণ তথ্য বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আমি দায়ী থাকব না।”
বিজ্ঞপ্তির শেষ অংশে তিনি জনগণ ও মিডিয়াকে অনুরোধ করেন যে, শুধুমাত্র সরকারি ও অফিসিয়াল সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণের জন্য সতর্ক থাকুন। এই আহ্বানটি সামাজিক মিডিয়ায় ভুয়া খবরের প্রসার রোধে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানও একই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, আবদুস সাত্তার তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সিদ্ধান্তটি সরকারী নীতিমালা ও তথ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গত মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর, বাংলাদেশ সরকার তারেক রহমানের মুখ্য সচিব পদে আবদুস সাত্তারকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। এই নিয়োগের মাধ্যমে তিনি সরকারী দায়িত্বে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
আবদুস সাত্তার ৩ জানুয়ারি থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের দায়িত্বের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখেছেন।
এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার একান্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। খালেদা জিয়া, যিনি একাধিক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ছিলেন, তার প্রশাসনিক সহায়তা কাজের জন্য তিনি পরিচিত।
সামাজিক মিডিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের ব্যবহার নিয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, এই পদক্ষেপটি তথ্যের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক আলোচনায় ভুল তথ্যের দ্রুত বিস্তার রোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সামাজিক নেটওয়ার্ক থেকে দূরে থাকা ভবিষ্যতে তথ্যের গুণগত মান বজায় রাখতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, মিডিয়া সংস্থাগুলোকে অফিসিয়াল ঘোষণার ওপর নির্ভর করতে হবে।
অবশিষ্ট সময়ে, বাংলাদেশ সরকার সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদারকি বাড়াবে বলে জানিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে, জনসাধারণকে অফিসিয়াল সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণের জন্য পুনরায় আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, আবদুস সাত্তার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্তকে সরকারী তথ্য নীতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ভবিষ্যতে এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি যোগাযোগের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।



