প্রায় তিন হাজার বছর আগে, আজকের সারবিয়ার ভূখণ্ডে একটি সমাধি গর্তে ৭৭ জনের হদিস পাওয়া গেছে। গর্তটি নারী ও শিশুরা অধিকাংশে সমন্বিত, যা গবেষকদের মতে পরিকল্পিত হত্যার সম্ভাবনা নির্দেশ করে। এই তথ্যটি ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গর্তটির ব্যাস প্রায় তিন মিটার, তবে গভীরতা মাত্র অর্ধ মিটার। এটি ৫০ বছরেরও বেশি আগে ইউগোস্লাভিয়ান প্রত্নতত্ত্ববিদদের দ্বারা আবিষ্কৃত হয় এবং বর্তমানে নোভি সাদের ভয়ভোদিনা জাদুঘরে সংরক্ষিত। সাম্প্রতিক সময়ে আধুনিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে পুনরায় পরীক্ষা করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে ডিএনএ পরীক্ষা, দাঁতের এনামেল থেকে প্রোটিনের মাধ্যমে লিঙ্গ নির্ধারণ এবং হাড়ের গঠন বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত। এসব পদ্ধতি একসাথে মৃতদের বয়স, লিঙ্গ এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ে সাহায্য করেছে। ফলাফল দেখায় যে গর্তের অধিকাংশ দেহই নারী ও শিশুরা।
মোট ৭৭টি দেহের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি শিশু এবং ৭০ শতাংশের বেশি নারী। বাকি অংশে প্রায় ২০ জন পুরুষ ও কিশোরের দেহ অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের অনুপাত স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় কম। এই বৈষম্যটি কেবল র্যান্ডম নয়, বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে।
গবেষকরা উল্লেখ করেন, সমাধি গর্তে পুরুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়া স্বাভাবিক নয়। সাধারণত সমগ্র হত্যাকাণ্ডে পুরুষ ও নারীর সংখ্যা সমান থাকে, অথবা যুদ্ধের সময় পুরুষের সংখ্যা বেশি দেখা যায়। তাই এই গর্তে নারী ও শিশুরা অধিকাংশে থাকা একটি অস্বাভাবিক প্রবণতা।
প্রাচীন সময়ে যুদ্ধের পরিণতিতে বন্দী নারী ও শিশুরা প্রায়শই দাসত্বে বিক্রি হতো, ফলে সমাধি গর্তে তাদের উপস্থিতি কম দেখা যেত। তবে এই গর্তে তাদের উচ্চ অনুপাত নির্দেশ করে যে তারা সরাসরি হত্যার শিকার হয়েছে, দাসত্বের বদলে।
গবেষকরা এই ঘটনাকে সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ফলাফল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। কৃষিকাজের প্রবর্তনের পর ইউরোপে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পদ ও ভূমি নিয়ন্ত্রণের জন্য সংঘাত বাড়তে থাকে, যা ধীরে ধীরে র্যাডিকাল সহিংসতায় রূপ নেয়।
প্রায় আট থেকে নয় হাজার বছর আগে কৃষি শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপে ধীরে ধীরে রেইড থেকে সংগঠিত যুদ্ধের দিকে পরিবর্তন ঘটেছে। এই পরিবর্তনটি প্রাচীন গর্তগুলোর বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে হিংসার মাত্রা ও পদ্ধতি আরও পরিকল্পিত হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে প্রারম্ভিক লোহার যুগে গোমোলাভা নামে একটি সমাধি গর্তে একই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা বর্তমান গর্তের সঙ্গে ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা তৈরি করে। উভয় গর্তই একই অঞ্চলে অবস্থিত এবং একই সময়ের কাছাকাছি, ফলে এই অঞ্চলটি ঐ সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
এই গবেষণার ফলাফল প্রাচীন সমাজে হিংসার প্রকৃতি ও লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। নারী ও শিশুরা সরাসরি হত্যার শিকার হওয়া সম্ভবত শত্রু গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার একটি কৌশল ছিল।
প্রাচীন সময়ের এই ধরণের সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিশ্লেষণ আমাদের আধুনিক সমাজে সহিংসতার উত্স ও বিকাশের পথ বুঝতে সাহায্য করতে পারে। ভবিষ্যতে আরও সমাধি গর্তের বিশ্লেষণ এই ধরণের প্যাটার্নের ব্যাপকতা যাচাই করতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আপনার কি মনে হয়, প্রাচীন সমাজে এমন লক্ষ্যিত হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী ধরনের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অতিরিক্ত গবেষণা ও সমন্বিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।



