প্রিমিয়ার লীগ এই মৌসুমে অতিরিক্ত ম্যাচ সংখ্যা এবং আর্থিক নিয়মের প্রভাবের ফলে মাঠে সমতল খেলা দেখা যাচ্ছে, তবে টেবিলের সামগ্রিক ঘনত্ব বাড়ছে। খেলোয়াড়দের ক্লান্তি এবং ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষের সুর দীর্ঘদিন থেকে শোনা যাচ্ছে।
ক্লাবগুলো এখন শুদ্ধ পজেশনাল ফুটবলের বদলে সরাসরি আক্রমণ ও সেট-প্লে উপর বেশি নির্ভর করছে, যা কিছু ভক্তের মতে গেমের মানকে পিছিয়ে দিয়েছে। তবু মৌসুমের শেষের দিকে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর হয়েছে, এবং শীর্ষ পাঁচের জন্য লড়াই তীব্র।
চ্যাম্পিয়নস লিগের স্থান নিশ্চিত করতে দলগুলো এখন প্রতিটি পয়েন্টের জন্য লড়াই করছে, যেখানে উলভস এবং বার্নলি প্রায় নিশ্চিতভাবে অবনতি ঝুঁকিতে রয়েছে। অবনতি রক্ষার জন্য চারটি দল শেষের স্লটে পৌঁছানোর ঝুঁকিতে, আর আরেকটি দল তৃতীয় থেকে নিচে নামার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এই তীব্রতা মূলত সব দলই কিছু না কিছু ত্রুটি বহন করার ফলে সৃষ্টি হয়েছে; তবে এটাই প্রিমিয়ার লীগের স্বাভাবিক অবস্থা। ম্যানচেস্টার সিটি বা লিভারপুলের মতো দলগুলো উচ্চ ৯০ পয়েন্টের শীর্ষে পৌঁছানোর দিন শেষ, এবং ভবিষ্যতে শিরোপা জয়ী দল প্রায় ৮৫ পয়েন্টে সীমাবদ্ধ থাকবে।
পয়েন্টের এই হ্রাসকে কিছু বিশ্লেষক দুর্বলতা হিসেবে দেখলেও, অবনতি রক্ষার জন্য গড়ে এক পয়েন্টের প্রয়োজনীয়তা পুরো লিগের মান উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে। নতুনভাবে প্রিমিয়ার লীগে প্রবেশ করা দলগুলোর মধ্যে কমপক্ষে একটি দল অবনতি হবে, তবে তারা পূর্বের তুলনায় ভালভাবে মানিয়ে নিয়েছে।
প্রতিটি নতুন দল তাদের পারফরম্যান্সে উন্নতি দেখিয়েছে, যা লিগের সামগ্রিক গুণগত মানকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। এই উন্নতি টটেনহ্যামের অবনতি ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে, কারণ তাদের আর্সেনালের বিরুদ্ধে ঘরে হারটি তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয় ছিল।
আর্সেনালের এই জয় টটেনহ্যামের জন্য বড় ধাক্কা, এবং তাদের ঘরে হারের পরিমাণ ঐতিহাসিকভাবে সর্বোচ্চ। এই ফলাফল টটেনহ্যামের অবনতি ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে, যা পূর্বে অল্পই কল্পনা করা যায়।
লিগের শীর্ষে ফিরে আসার জন্য ম্যানচেস্টার সিটি এবং আর্সেনাল উভয়ই প্রায় ৮৫ পয়েন্টের কাছাকাছি লক্ষ্য রাখবে, যা পূর্বের উচ্চ পয়েন্টের তুলনায় কম। তবে এই পয়েন্টের পার্থক্যকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে, এটি লিগের সমতা ও প্রতিযোগিতার সূচক হিসেবে দেখা যায়।
উলভস এবং বার্নলি অবনতি ঝুঁকিতে থাকলেও, তাদের পারফরম্যান্সে কিছু উন্নতি দেখা গেছে, যা ভবিষ্যতে পুনরায় লিগে ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, টটেনহ্যাম এখন অবনতি রক্ষার জন্য কঠিন অবস্থায়, এবং তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ফলাফল নির্ধারক হবে।
প্রিমিয়ার লীগে এখন শীর্ষ পাঁচের জন্য লড়াই তীব্র, এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের স্থান নিশ্চিত করতে দলগুলো প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিচ্ছে। একই সঙ্গে অবনতি রক্ষার জন্য নিচের দলগুলোও তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, যা লিগকে সামগ্রিকভাবে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
মৌসুমের শেষের দিকে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে টেবিলের পার্থক্য কমে আসছে, এবং প্রতিটি পয়েন্টের গুরুত্ব বাড়ছে। এই পরিস্থিতি লিগের সামগ্রিক গুণগত মানকে সমানভাবে উন্নত করছে, যদিও কিছু ভক্ত এখনও ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনকে সমালোচনা করছেন।
সারসংক্ষেপে, প্রিমিয়ার লীগ এই মৌসুমে ক্লান্তি, আর্থিক নিয়ম এবং ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনের সমন্বয়ে সমতল খেলা ও টেবিলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অবনতি রক্ষার লড়াই তীব্রতর হয়েছে, যা লিগকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে।



