যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর আগামী ৩ মার্চ ঢাকা শহরে দুই দিনের দ্বিপক্ষীয় সফর করবেন। সফরের প্রধান উদ্দেশ্য দুই দেশের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রের সহযোগিতা জোরদার করা। সফরটি বাংলাদেশ সরকার গঠনের পর প্রথম উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় ভ্রমণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের ফলস্বরূপ গঠিত হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো মার্কিন সরকার থেকে উচ্চপদস্থ কূটনীতিকের সফর হওয়ায় দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পল কাপুরের সফরকে দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আজ দুপুরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ সরকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হয় এবং পল কাপুরের আসন্ন সফরকে আলোচনার অন্যতম বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়। দু’পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাদৃশ্য এবং শান্তি ও উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকারের ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আলোচনার সময় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, অভিবাসন এবং জনগণের মধ্যে বিনিময়সহ সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়েছে। উভয় পক্ষই এই ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক সুবিধা বাড়াতে এবং নতুন প্রকল্প চালু করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা দু’দেশের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গা সমস্যার প্রসঙ্গে মার্কিন সরকার অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। বাংলাদেশ সরকারকে মিয়ানমারে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য টেকসই রাজনৈতিক সহায়তা প্রদান করার আহ্বান জানানো হয়। উভয় পক্ষই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক অধিকার রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে সব ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ও মার্কিন সরকারের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করে। এই আশাবাদকে ভিত্তি করে দু’দেশের কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়া আরও ঘনিষ্ঠ হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও আজ খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে প্রথমে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয় এবং পল কাপুরের সফরের প্রস্তুতি সম্পর্কে মতবিনিময় করা হয়।
পল কাপুরের সফরকে দু’দেশের কূটনৈতিক ক্যালেন্ডারে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সফরের সময় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক, ব্যবসায়িক ফোরাম এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই সফর দু’দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে পরিচালিত হবে।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশ সরকার ও মার্কিন সরকারের মধ্যে চলমান সংলাপ এবং পারস্পরিক সমঝোতা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে বলে উভয় পক্ষই আত্মবিশ্বাসী। পল কাপুরের আসন্ন সফর এই দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



