কর্ণাটক হাইকোর্ট রণবীর সিংয়ের ধর্মসংবেদনশীলতা সংক্রান্ত মামলায় তার জরুরি শুনানির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মূল শুনানির তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছে। আদালত উল্লেখ করেছে যে, তার সেলিব্রিটি মর্যাদা ভিত্তিক কোনো বিশেষ সুবিধা প্রদান করা যায় না। ফলে রণবীরের ত্বরিত তালিকাভুক্তি অনুরোধ বাতিল হয়েছে।
রণবীর সিং গত মঙ্গলবার উচ্চ আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করেন, যার মাধ্যমে তিনি তার বিরুদ্ধে চালু করা ফৌজদারি প্রক্রিয়া বাতিলের আবেদন করেন। অভিযোগটি তার ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করার সন্দেহে দায়ের করা হয়েছিল। পিটিশনের মূল দাবি ছিল যে, তার ওপর আরোপিত আইনি পদক্ষেপ তার স্বাভাবিক অধিকার লঙ্ঘন করছে।
এই অভিযোগের মূল ঘটনা ঘটেছিল গত বছর গোয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (IFFI)-এ, যেখানে রণবীর সিং কন্নড় অভিনেতা-চলচ্চিত্র নির্মাতা রিশাব শেট্টির সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। শেট্টির ‘কান্তারা: চ্যাপ্টার ১’ চলচ্চিত্রের প্রশংসা করার সময় রণবীর কিছু অভিব্যক্তি অনুকরণ করেন, যা পাঞ্জুরলি/গুলিগা দাইবা চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শেট্টি কিছুটা দ্বিধা প্রকাশ করলেও রণবীরের এই অনুকরণকে ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি অবমাননাকর হিসেবে দেখা হয়েছে।
প্রশ্নে উত্থাপিত অভিযোগটি অ্যাডভোকেট প্রাশান্ত মেথাল ১ম অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ACJM) আদালতে দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে বিষয়টি হাই গ্রাউন্ডস পুলিশে পাঠানো হয় এবং পরে রণবীরের বিরুদ্ধে একটি FIR দাখিল করা হয়। FIR-এ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita) এর ধারা ১৯৬, ২৯৯ এবং ৩০২ উল্লেখ করা হয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতি উত্তেজিত করা, ঘৃণার উসকানি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত করার অপরাধকে অন্তর্ভুক্ত করে।
অভিযোগকারী আরও যুক্তি দেন যে, রণবীর সিং চাভুন্ডি দাইবাকে “মহিলা ভূত” বলে উল্লেখ করেছেন এবং তার বৈশ্বিক প্রভাবের কথা বিবেচনা করে তিনি এই ধরনের মন্তব্যের ফলে ভক্তদের আপত্তি উত্থাপিত হবে তা জানতেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে অভিযোগকারী দাবি করেন যে, তার মন্তব্য শুধুমাত্র রসিকতা নয়, বরং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রতি অবহেলা।
কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারপতি এম নগাপ্রসন্না নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রণবীরের ত্বরিত শুনানির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে, আদালতের সমান ন্যায়বিচার নীতি পুনর্ব্যক্ত করে। আদালত জোর দিয়ে বলেছে যে, কোনো নাগরিকের মর্যাদা বা জনপ্রিয়তা ভিত্তিক বিশেষ সুবিধা প্রদান করা যায় না। তাই রণবীরের পিটিশনটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং মামলাটি নিয়মিত শিডিউলে রাখা হয়েছে।
বিচারক নগাপ্রসন্না ও সহবিচারকদের সামনে রণবীরের আইনজীবী মামলাটির দ্রুত সমাধানের জন্য অনুরোধ করেন, তবে আদালত তার অনুরোধকে অগ্রাহ্য করে মূল শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রণবীরের আইনগত দলকে এখন থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, যখন পুরো মামলাটি পুনরায় বিবেচনা করা হবে।
মামলাটির পরবর্তী ধাপগুলোতে আদালত প্রমাণাদি, সাক্ষী এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত বিধানগুলো বিশ্লেষণ করবে। রণবীরের পক্ষে এখনও আপিলের সম্ভাবনা রয়ে গেছে, তবে বর্তমান পর্যায়ে আদালত তার জরুরি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ঘটনা শিল্প জগতে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সেলিব্রিটি মর্যাদার মধ্যে সূক্ষ্ম সমতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
বিনোদন ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের পাঠকদের জন্য এই মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত, যেখানে শিল্পীর প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষার মধ্যে সমতা রক্ষা করা জরুরি। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়গুলোতে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, যাতে কোনো শিল্পী অনিচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় সম্প্রদায়কে আঘাত না করে।



