মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলতি মাসের এমপিও বেতন বিল ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে দ্রুত পাঠানোর লক্ষ্যে অনলাইন জমা বাধ্যতামূলক করেছে। অধিদপ্তর সোমবার প্রকাশিত চিঠিতে জানিয়েছে, বিল সময়মতো না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক‑কর্মচারীর বেতন ইএফটিতে পৌঁছাবে না এবং দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের ওপর থাকবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ইএমআইএস (শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যবস্থা) সিস্টেমে লগইন করে এমপিও‑ইএফটি মডিউলে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে প্রত্যেক শিক্ষক‑কর্মচারীর জন্য বিধি অনুযায়ী বেতন হিসাব নির্ধারণ করে বিল তৈরি করে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনলাইনে জমা দিতে হবে। জমা দেওয়ার পর বিলের কপি ডাউনলোড করে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি স্বাক্ষর করে সংরক্ষণ করতে হবে; ভবিষ্যতে কোনো বিরোধ বা জটিলতা দেখা দিলে এই নথি প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
বিল জমা না করলে বা ভুল তথ্য প্রদান করলে এমপিও তহবিল ইএফটিতে পাঠানো হবে না, এবং এর ফলে সৃষ্ট কোনো আর্থিক ক্ষতির দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধানের ওপরই থাকবে। তাই চিঠিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র আইবাসে যাচাই করা বৈধ জনবল তথ্যই বিলের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যদি কোনো কর্মীর তথ্য এখনও সঠিক না হয়, তবে তা সংশোধন ও যাচাইয়ের পরই বিলের তালিকায় যুক্ত করা হবে।
প্রতিষ্ঠান তালিকায় থাকা কোনো শিক্ষক‑কর্মচারী যদি মৃত্যুবরণ করেন, পদত্যাগ করেন বা কোনো কারণে সেবায় আর না থাকেন, তবে সংশ্লিষ্ট মাসের জন্য তার বেতন অধিকার পুনরায় নির্ধারণ করে বিলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একইভাবে, সাময়িক বরখাস্ত, অনুমোদনহীন অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণের জন্য বেতন কাটার প্রয়োজন হলে তা বিল জমা করার সময় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হল, ইএমআইএস সিস্টেমে ব্যবহারিক আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে এমপিও‑ইএফটি মডিউলে প্রবেশের পর প্রতিটি কর্মীর বেতন হিসাব আলাদা করে নির্ধারণ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি না থাকলে, সংশ্লিষ্ট মাসের বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইএফটি মাধ্যমে শিক্ষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
নতুন নির্দেশনা অনুসারে, যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে তথ্যের ভুল বা ইচ্ছাকৃত ভুল উপস্থাপন করা হয়, তবে তা সংশোধন না করা পর্যন্ত বেতন প্রক্রিয়া থেমে থাকবে এবং দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে সংশ্লিষ্ট শাস্তি বা দায়বদ্ধতা বহন করতে হবে। এই ব্যবস্থা শিক্ষকদের সময়মতো বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়ায়।
সর্বশেষে, অধিদপ্তর উল্লেখ করেছে যে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা মেনে চলতে হবে এবং সময়মতো অনলাইন বিল জমা না করলে শিক্ষকদের বেতন দেরি বা অপ্রাপ্তির ঝুঁকি বাড়বে। তাই প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উচিত, ইএমআইএস সিস্টেমে প্রবেশের আগে সকল তথ্য পুনরায় যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন দ্রুত সম্পন্ন করা।
**ব্যবহারিক টিপস:** আপনার প্রতিষ্ঠানের এমপিও বেতন বিল জমা দেওয়ার আগে, প্রথমে আইবাসে আপডেটেড জনবল তালিকা নিশ্চিত করুন, তারপর ইএমআইএসে লগইন করে প্রতিটি শিক্ষক‑কর্মচারীর বেতন হিসাব পুনরায় যাচাই করুন। শেষের দিকে ডাউনলোড করা বিলের কপি স্বাক্ষর করে সংরক্ষণ করুন; কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে এটি আপনার সুরক্ষা নথি হবে। আপনার প্রতিষ্ঠানে যদি কোনো কর্মীর অবস্থা (মৃত্যু, পদত্যাগ, সাময়িক বরখাস্ত) পরিবর্তিত হয়ে থাকে, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে আপডেট করে বিলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করুন। এইভাবে সময়মতো এবং সঠিকভাবে বেতন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।



