ইউইফা গিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানিকে অস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে, ফলে বেনফিকার এই খেলোয়াড় রিয়াল মাদ্রিদকে মুখোমুখি হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় লেগে অংশ নিতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞা গত সপ্তাহে লিসবনে রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকার প্রথম লেগে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সঙ্গে ঘটিত ঘটনার পর আরোপিত হয়।
ভিনিসিয়াস জুনিয়র দাবি করেন যে প্রেস্টিয়ানি তাকে জাতিগতভাবে অপমান করেছে, যা ম্যাচের সময় এক মুহূর্তের জন্য খেলাটিকে দশ মিনিটের জন্য বিলম্বিত করে। ভিনিসিয়াসের গোলের পর রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়, কারণ তারা প্রেস্টিয়ানির শার্ট দিয়ে মুখ ঢাকতে দেখেন এবং কিছু শব্দ শোনেন।
ইউইফা তৎক্ষণাৎ একটি নৈতিক ও শাস্তিমূলক পরিদর্শক নিযুক্ত করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ফলাফল নির্ভর করে প্রেস্টিয়ানি যদি জাতিগত বৈষম্যের দোষী প্রমাণিত হন, তবে তাকে সর্বোচ্চ দশ ম্যাচের সাসপেনশনও হতে পারে। বর্তমানে তিনি এই সপ্তাহের রিয়াল মাদ্রিদ বিপক্ষে রিটার্ন ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না।
বেনফিকা ক্লাবের মুখপাত্র দলটি তদন্তে সহযোগিতা করার কথা জানিয়ে, প্রেস্টিয়ানিকে “ঝুঁকিপূর্ণ প্রচারণার শিকার” বলে উল্লেখ করে সমর্থন প্রকাশ করেছে। ক্লাবের মতে, প্রেস্টিয়ানি কোনো রকমের জাতিগত অপমান করেনি এবং তিনি সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ।
প্রেস্টিয়ানি নিজে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন যে তিনি ভিনিসিয়াসকে কোনো জাতিগত গালি দেননি এবং তার কথাকে ভুল বোঝা হয়েছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের থেকে প্রাপ্ত হুমকির কথাও উল্লেখ করে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
ভিনিসিয়াসও একই প্ল্যাটফর্মে একটি বার্তা শেয়ার করেন, যেখানে তিনি রেসিস্ট্যান্টদেরকে ‘কাউয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং তাদের দুর্বলতা প্রকাশের জন্য শার্ট দিয়ে মুখ ঢাকার উপমা ব্যবহার করেন। তিনি কোনো মন্তব্য না করলেও তার পোস্টটি ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ইউইফা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উল্লেখ করেছে যে, প্রেস্টিয়ানির উপর আরোপিত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র প্রথম লেগের পরিণতি, এবং সম্পূর্ণ তদন্তের ফলাফল জানার পরই চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারিত হবে।
প্রেস্টিয়ানির অস্থায়ী বাদ পড়া বেনফিকার রিয়াল মাদ্রিদ বিপক্ষে কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ তিনি দলের আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। কোচের পরিবর্তিত রোস্টার এবং বিকল্প খেলোয়াড়দের ব্যবহার এখনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদ দলের কিলিয়ান এমবাপ্পে ম্যাচের আগে দলের মনোভাব বজায় রাখতে বলেছিলেন যে, দলটি কোনো বাহ্যিক বিষয়ের দ্বারা বিচলিত হবে না এবং মাঠে সঠিক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করবে। তার মন্তব্যগুলো দলীয় ঐক্য বজায় রাখার লক্ষ্যে ছিল।
ইউইফা কর্তৃক গৃহীত এই পদক্ষেপটি ইউরোপীয় ফুটবলে জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি পুনরায় জোরদার করে। পূর্বে অনুরূপ ঘটনার জন্য কঠোর শাস্তি আরোপের উদাহরণ রয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে প্রেরণা দেবে।
এই ঘটনার পর বেনফিকার ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু সমর্থক প্রেস্টিয়ানির প্রতি সমর্থন জানিয়ে, তাকে ‘নির্দোষ’ বলে দাবি করেন, অন্যদিকে কিছু ভক্ত রিয়াল মাদ্রিদের দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করে জাতিগত অপমানের শূন্য সহনশীলতা দাবি করেন।
ইউইফা তদন্তের সময়সূচি এখনও প্রকাশ করেনি, তবে উভয় দলই জানিয়েছে যে তারা ফলাফলের জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য সরবরাহ করবে। শেষ পর্যন্ত, প্রেস্টিয়ানির ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার এবং বেনফিকার ইউরোপীয় ক্যাম্পেইন এই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হবে।
এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার নীতি এবং ক্লাবের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য এখনই স্পষ্ট যে, জাতিগত বৈষম্যের কোনো রূপই সহ্য করা হবে না এবং তা দ্রুত ও কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে।



