আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) নতুন প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে মো. আমিনুল ইসলাম সোমবার দুপুরে হোয়াটসন রুমে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি ট্রাইব্যুনালের বিচারিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিযুক্ত হলেন।
শপথের পর সরাসরি ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের কাছ থেকে দায়িত্ব হস্তান্তর নেওয়ার পর, আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, আইসিটি একটি আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের স্থান নেই।
প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আইনের বাইরে কোনো নির্দেশনা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে আইনি কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং অন্য কোনো নির্দেশনা তার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারবে না।
নতুন প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলামের পদত্যাগের পর, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ করা আমিনুল ইসলাম এই দায়িত্ব গ্রহণের পেছনে জুলাই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীরদের ইচ্ছা পূরণ করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবের শহীদগণ ও পঙ্গুত্ববরণদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমি এই ট্রাইব্যুনালে আমার কর্তব্য পালন করতে চাই।”
এদিকে, তিনি চলমান এবং ভবিষ্যতে শুরু হতে যাওয়া মামলাগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমানের বিচারাধীন মামলাগুলোতে তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন এবং নতুন মামলাগুলোতে একই নীতি বজায় রাখার আশ্বাস দেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি সম্পূর্ণরূপে চেষ্টা করব যাতে ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হয়।”
সাক্ষাৎকারে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং তাদের পরিবারদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে, তিনি দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, এবং সাম্প্রতিক সময়ে মারা যাওয়া নেত্রী খালেদা জিয়া, পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, “তাঁদের অবদান ও ত্যাগের স্মৃতি সর্বদা রক্ষিত থাকবে।”
সাক্ষাৎকারের সময় সাংবাদিকরা আইনমন্ত্রী বা বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে কোনো নির্দেশনা বা পরিকল্পনা পাওয়া গিয়েছে কিনা জিজ্ঞাসা করেন। তার উত্তরে তিনি পুনরায় জোর দেন যে ট্রাইব্যুনাল শুধুমাত্র আইনের ভিত্তিতে কাজ করে এবং কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপ তার কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে না।
নতুন প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ট্রাইব্যুনালের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক আইনের সঠিক প্রয়োগের ওপর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সহযোগিতার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল তার মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।
এই দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ট্রাইব্যুনালের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও প্রক্রিয়ার উন্নয়নে মনোযোগ দেবেন, যাতে বিচার দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন হয়। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে নতুন মামলাগুলোতে শিকারদের অধিকার রক্ষায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শেষে, আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমি এই দায়িত্বকে জাতির স্বার্থে, শহীদদের ইচ্ছা অনুযায়ী পালন করব এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ন্যায়বিচারকে অটুট রাখব।” তার এই বক্তব্য ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রতি দৃঢ় সংকল্পকে প্রতিফলিত করে।



