ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি – হোম মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আজ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে বাংলাদেশ সরকার পাসপোর্ট প্রাপ্তিতে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও অসুবিধা কমাতে নতুন ব্যবস্থা চালু করতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের নাগরিকদের অধিকাংশই পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অপরিচিত, আর কিছু অফিসের কর্মচারীর অনিয়মের ফলে আবেদনকারীরা অতিরিক্ত কষ্টের মুখে পড়ে।
মন্ত্রীর মতে, পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয়কৃত ও জটিল হওয়ায় সাধারণ মানুষকে প্রায়শই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই পরিস্থিতি দূর করার জন্য সরকার কিছু বাস্তবিক সমাধান খুঁজে পেয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হল নিবন্ধিত সেবা প্রদানকারীর অনুমোদন।
নতুন ব্যবস্থায়, নিবন্ধিত ব্যক্তিদের – যাদের কাজের ধরণ দস্তাবেজ লেখকের মতো – পাসপোর্ট আবেদন, নথি যাচাই ও সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হবে। এই সেবা প্রদানকারীরা সরকার অনুমোদিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে নির্দিষ্ট সেবা ফি গ্রহণ করতে পারবে।
ফি সংগ্রহের মাধ্যমে সেবা প্রদানকারীরা তাদের কাজের জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, আবেদনকারীরা পেশাদার সহায়তা পেয়ে প্রক্রিয়ার গতি বাড়াবে এবং অনাবশ্যক দেরি কমবে।
প্রথম ধাপে এই ব্যবস্থা ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরে প্রয়োগ করা হবে। নির্বাচিত শহরগুলোতে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সেবা প্রদানকারীর কার্যকারিতা ও নাগরিক সন্তুষ্টি পর্যবেক্ষণ করা হবে, এরপর ধীরে ধীরে পুরো দেশে বিস্তৃত করা হবে।
মন্ত্রীর মন্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে না শুধুমাত্র কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, বরং সাধারণ মানুষের পাসপোর্ট প্রাপ্তির সময়সীমা কমে যাবে এবং সরকারি দফতরের ওপর চাপ হ্রাস পাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই নীতি বাস্তবায়ন নাগরিকের কষ্ট কমিয়ে দেশের সামগ্রিক সেবা মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ হোম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল দিকনির্দেশনা সংস্থার প্রধান ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে পাসপোর্ট পরিষেবার সংস্কার, নতুন সেবা প্রদানকারীর নিয়মাবলী এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের সময় মন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দ্রুত নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং সেবা প্রদানকারীর মানদণ্ড নির্ধারণে কাজ শুরু করতে বলা হয়। এছাড়া, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নতুন সিস্টেমের পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
এই ঘোষণার পর থেকে নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। বহু আবেদনকারী আশা প্রকাশ করেছেন যে নিবন্ধিত সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে পাসপোর্ট প্রাপ্তি সহজ হবে এবং দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা শেষ হবে।
বাংলাদেশ সরকার এই নীতি চালু করার মাধ্যমে পাসপোর্ট পরিষেবার কাঠামোকে আধুনিকায়ন করতে এবং জনসাধারণের অভিযোগের সমাধান করতে চায়। পরবর্তী ধাপে, মন্ত্রীর নির্দেশে পাইলট প্রকল্পের ফলাফল বিশ্লেষণ করে পুরো দেশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করা হবে, যা দেশের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।



