জাতীয় নাগরিক দল (NCP) আগামী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য দুইজনকে মেয়র প্রার্থীরূপে বিবেচনা করছে। দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ শোজিব ভূয়াইন এবং সিনিয়র জয়েন্ট কনভেনার আরিফুল ইসলাম আদিবকে যথাক্রমে উত্তর ও দক্ষিণে প্রার্থী হিসেবে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি দলীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে চলমান আলোচনার পর গৃহীত হয়েছে, যা আজ সন্ধ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
আদিবের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রথমে তাকে এবং আসিফ মাহমুদকে মেয়র প্রার্থীর সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করেছিল। তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি পূর্বে জাতীয় নির্বাচনে এই অঞ্চলে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা তাকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তুলতে পারে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি এবং বিষয়টি দলের অভ্যন্তরে চলমান আলোচনার অধীনে রয়েছে।
আসিফ মাহমুদ শোজিব ভূয়াইন, যিনি দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন, পূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনসাধারণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছেন। তার যোগাযোগ দক্ষতা এবং মিডিয়া ব্যবস্থাপনা ক্ষমতা দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও তিনি এখনো মেয়র প্রার্থীরূপে নিশ্চিত হননি, তবে তার প্রোফাইলকে কেন্দ্র করে দলীয় পরিকল্পনা গড়ে উঠছে।
আদিব, যিনি সিনিয়র জয়েন্ট কনভেনার পদে আছেন, তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বহু বছর আগে শুরু হয়। তিনি স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার অভিজ্ঞতা এবং নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে দলটি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলতে চায়।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণের আগে আরও কয়েকটি অভ্যন্তরীণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভাগুলোতে প্রার্থীর প্রোফাইল, নির্বাচনী কৌশল এবং ভোটারদের প্রত্যাশা বিশ্লেষণ করা হবে। শেষ পর্যন্ত একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে দলীয় সিদ্ধান্ত জনসাধারণের কাছে জানানো হবে।
প্রতিপক্ষ দলগুলো এই উন্নয়নকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দলগুলো তাদের নিজস্ব প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং জাতীয় নাগরিক দলের প্রস্তাবিত নামগুলোকে কৌশলগতভাবে বিশ্লেষণ করছে। যদিও এখনো কোনো সরাসরি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই প্রস্তাবনা নির্বাচনী গতিবিধিতে নতুন দিক যোগ করবে।
জাতীয় নাগরিক দলের এই পদক্ষেপের ফলে ঢাকা শহরের দুই ভাগে ভোটারদের পছন্দের পরিসীমা প্রসারিত হতে পারে। আসিফ মাহমুদের মিডিয়া উপস্থিতি এবং আদিবের স্থানীয় সংযোগ দুটোই ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, দলটি এই দুই প্রার্থীর মাধ্যমে শহরের অবকাঠামো, সেবা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি兑现 করার পরিকল্পনা করছে।
নির্বাচনের সময়সীমা নিকটবর্তী হওয়ায় দলটি দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চায়। প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার শুরু করার আগে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে অনুমোদন পাওয়া প্রয়োজন। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই দলীয় কর্মীরা প্রচারমূলক উপকরণ প্রস্তুত করবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য রোড শো, সভা ও বিতরণমূলক কার্যক্রম চালু করবে।
দলীয় কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে প্রার্থীদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং সকল প্রাসঙ্গিক নথি জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত করা হবে। এছাড়া, নির্বাচনী কমিশনের নির্দেশনা মেনে চলা এবং নির্বাচনী আইন অনুসরণ করা হবে বলে দলটি জোর দিয়েছে।
এই ঘোষণার পর থেকে সামাজিক মিডিয়ায় বিভিন্ন মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। কিছু সমর্থক দলটির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে আসিফ মাহমুদ এবং আদিবের নেতৃত্বে শহরের উন্নয়ন দ্রুততর হবে। অন্যদিকে, কিছু সমালোচকরা প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা ও নীতিমালার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে দলটি এই মতামতগুলোকে রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে গ্রহণ করবে।
জাতীয় নাগরিক দল আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে একটি প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। এই অনুষ্ঠানে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবে এবং নির্বাচনী পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবে। ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর জন্য দলটি বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির উপযোগী বার্তা তৈরি করবে।
সারসংক্ষেপে, জাতীয় নাগরিক দল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ শোজিব ভূয়াইন এবং আরিফুল ইসলাম আদিবকে মেয়র প্রার্থীরূপে বিবেচনা করছে। যদিও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি, তবে দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলমান এবং শীঘ্রই একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের ফলে শহরের রাজনৈতিক দৃশ্যপট নতুন মোড় নিতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের পছন্দের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



