শ্রুতি হাসান, অভিনেত্রী‑সঙ্গীতশিল্পী, সম্প্রতি নিজের পরিচয় ও ঘরের ধারণা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বহু শহর, বিভিন্ন চলচ্চিত্র শিল্প এবং সংস্কৃতির সঙ্গে জীবনের সংযোগকে ঘরের অনুভূতির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, ঘর আর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং অন্তরের স্বস্তি।
হাসান তামিল, তেলেগু এবং বলিউড চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন, যা তাকে চেন্নাই, হায়দ্রাবাদ এবং মুম্বাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে। প্রতিটি শহরে তিনি নিজস্ব শিল্প পরিবেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, যা তার পেশাগত পথকে সমৃদ্ধ করেছে। এই বহুমুখী অভিজ্ঞতা তার ঘরের ধারণাকে গঠন করেছে।
চেন্নাইতে ফিরে গেলে তিনি এক ধরনের অপ্রতিরোধ্য স্নেহ ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন, যা তিনি নিজের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেন। এই শহরের সঙ্গে তার সংযোগকে তিনি গভীর ও অনন্ত স্নেহের রূপে বর্ণনা করেছেন।
মুম্বাইতে তার অনুভূতি ভিন্ন রকমের, তবে তবু তীব্র স্নেহময়। শহরের গতিশীলতা ও বৈচিত্র্য তাকে অন্যধরনের ভালোবাসা দেয়, যা তিনি স্বীকার করেছেন।
হায়দ্রাবাদে, যেখানে তিনি তেলেগু চলচ্চিত্রে কাজ করেন, সেখানে তিনি আরেকটি স্বতন্ত্র স্নেহের স্তর অনুভব করেন। কাজের পরিবেশ ও স্থানীয় সংস্কৃতি তার হৃদয়ে নতুন রঙ যোগ করেছে।
এই সব শহরের সঙ্গে তার সংযোগের পরেও, হাসান ঘরের ধারণাকে আরও অন্তর্নিহিত করে তুলেছেন। তিনি বলেন, ঘর কোনো মানচিত্রের চিহ্ন নয়, বরং নিজের ভিতরের শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাকে যেকোনো স্থানে ফেলা হলে তিনি নিজের স্বস্তি খুঁজে পেতে সক্ষম হবেন। নতুন মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে, তার জন্য সবচেয়ে প্রিয় দিকটি খুঁজে বের করা এবং সেটিকে নিজের করে নেওয়াই জীবনের আনন্দ।
এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নতুন দিশা দেখিয়েছে। নিজের আত্মকে ঘর হিসেবে গ্রহণ করা তাকে নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাসের অনুভূতি প্রদান করেছে, যা তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হয়েছে।
হাসান স্বীকার করেন যে, যদিও ঘর তার জন্য মূলত অভ্যন্তরীণ, তবু তার জীবনে কিছু বাহ্যিক সংযোগও আছে। তার পিতাকে তিনি শারীরিকভাবে ঘরের সর্বোচ্চ রূপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যিনি তার জন্য এক ধরনের স্থায়ী সুরক্ষা প্রদান করেন।
অবশেষে, তিনি বলেন যে নিজের মধ্যে ঘর খুঁজে পাওয়া তার জন্য সবচেয়ে বড় সাফল্য। যদিও এটি স্বকেন্দ্রিক শোনাতে পারে, তবে এই দৃষ্টিভঙ্গি তার জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করেছে এবং তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
শ্রুতি হাসানের এই আত্ম-অন্বেষণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি তার ভক্ত ও শিল্পজগতের জন্য নতুন আলো ছড়িয়ে দিয়েছে, যেখানে ঘরকে শারীরিক স্থান নয়, বরং আত্মিক স্বস্তি হিসেবে দেখা হয়।



