সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল প্রায় ৩:৩০ টায় সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় কেরালকাটা ইউনিয়নের সাতপোতা বেডবাড়ি গ্রামে এক গোষ্ঠীর ছুরিকাঘাতে ২৮ বছর বয়সী ইব্রাহিম হোসেনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে তার বড় ভাই রুহুল আমিন, ৩৪, গম্ভীর আঘাতে আহত হন।
ইব্রাহিম হোসেন গ্রামজুড়ে পরিচিত ভ্যান চালক; তিনি এক সন্তানকে লালন-পালন করেন এবং তার স্ত্রী বর্তমানে গর্ভবতী। রুহুল আমিনও স্থানীয় শ্রমিক, দুজনেরই পরিবারে আর্থিক দায়িত্বের ভার ছিল।
ঘটনাস্থলীয় প্রতিবেশী মুরগির খামারের গন্ধ নিয়ে জামাল উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে কথোপকথন শুরু হয়। কথোপকথনের উত্তাপে দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বিরোধের সময় জামাল উদ্দিনের পুত্র আরিফুল ইসলাম ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে ইব্রাহিম হোসেন এবং রুহুল আমিনকে আঘাত করেন। আক্রমণটি একাধিকবার ঘটেছে বলে জানা যায়, ফলে দুজনের শারীরিক ক্ষতি গুরুতর হয়।
ইব্রাহিমকে আহত অবস্থায় কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক ডা. ফারজানা রহমান জানান, রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
অন্যদিকে রুহুল আমিনকে তীব্র রক্তক্ষরণ ও শক অবস্থায় সনাক্ত করা হয়; তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। চিকিৎসা দলের মতে, তার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
ডা. ফারজানা রহমানের মতে, ইব্রাহিমের মৃত্যু ঘটার কারণ ছিল আঘাতের তীব্রতা এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়া। তিনি উল্লেখ করেন, আহত রোগীর দ্রুত সাড়া পাওয়া সত্ত্বেও শারীরিক ক্ষতি অপরিবর্তনীয় ছিল।
ঘটনার পরপরই কলারোয়া থানা থেকে ওয়ান-সিনিক অফিসার এইচ.এম. শাহিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট পরিবারের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে আরিফুল ইসলাম (২৮), তার স্ত্রী সাথী আক্তার (২৫), পিতা জামাল উদ্দিন (৬২) এবং মা শাহানারা খাতুন (৫৫)। সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার অধীনে রাখা হয়েছে।
প্রতিবাদে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রের মালিকানা ও ব্যবহার সম্পর্কিত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ দল ঘটনাস্থল থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, রক্তের নমুনা এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অফিসার শাহিনের মতে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মামলাটি দ্রুত আদালতে দাখিল করা হবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান, ফলে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের কোনো পরিকল্পনা নেই।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় এই দুঃখজনক ঘটনা স্থানীয় সমাজকে শোকের মধ্যে ফেলেছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ রোধে সম্প্রদায়িক শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



