ঢাকা-১৩ নির্বাচনের ফলাফলকে ভোট চুরি বলে অভিহিত করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আজ পুরানা পল্টনে সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল বাতিল ও আইনি তদন্তের দাবি জানায়। পার্টির সচিব জেনারেল মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, ফলাফল রদবদল না হলে ধর্মীয় পণ্ডিত ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর জাতীয় পর্যায়ে বিরোধের ঝড় উঠবে।
সাময়িক সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ রিকশা প্রতীকী পার্টির এজেন্টদের বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ভোটার, বিশেষ করে নারীদের হুমকি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রিকশা প্রতীকী দলের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বহিষ্কৃত করা এবং ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটের স্বচ্ছতা নষ্ট করা হয়েছে।
এছাড়া পার্টির আমীর ও প্রার্থী আল্লামা মামুনুল হককে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় সীমাবদ্ধ করা হয় এবং পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে বের করা হয়, এমন দাবি করা হয়। মাওলানা জালালুদ্দিন উল্লেখ করেন, বিকেল ৪:৩০ টার দিকে বেশ কিছু কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয় এবং প্রধান এজেন্টদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া হয়।
গণনা পর্যায়ে ভোটের গণ্ডগোলের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, ভোটের গুণগত মানহানি ঘটিয়ে রিকশা প্রতীকী ভোটের হাজার হাজার বৈধ ভোট বাতিল করা হয়েছে এবং ধান গাঁথা প্রতীকী পার্টির ভোটে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা গেছে।
মাওলানা জালালুদ্দিনের মতে, প্রমাণভিত্তিক অভিযোগ জমা দেওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন আপত্তি সমাধান না করে সরকারি গেজেট প্রকাশ করেছে। তিনি এই প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলে সমালোচনা করেন এবং ফলাফল রদবদল না হওয়া পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।
বিএনপি কর্মী হাইদার আলির ওয়ার্ড ৩৪-এ সংঘর্ষ ও ব্যাটন চার্জে মৃত্যু ঘটার পর পার্টি একটি নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্তের দাবি জানায়। হাইদার আলির মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনায় পার্টি দাবি করে যে, ধারা-১৩ের বিএনপি আইনসভার সদস্য ও রাজ্য শিক্ষা মন্ত্রী ববি হাজ্জাজ রোগীর হাসপাতালে গিয়ে মামুনুল হক, অন্যান্য ধর্মীয় পণ্ডিত ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের হুমকি দিয়েছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পার্টি জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় পণ্ডিত ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের হয়রানি না হলে ব্যাপক প্রতিবাদ গড়ে তুলবে বলে সতর্কতা জানায়। পার্টি ছয়টি দাবি উপস্থাপন করেছে: ধারা-১৩ের ফলাফল বাতিল, হাইদার আলির মৃত্যুর ও নির্বাচনী অনিয়মের স্বতন্ত্র বিচারিক তদন্ত, দেশের নির্বাচনী দুর্নীতির জন্য স্বাধীন কমিশন গঠন, রাজনৈতিক হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় অবসান, এবং পার্টির নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
এই দাবিগুলি পূরণ না হলে পার্টি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় পণ্ডিত ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সমর্থনে প্রতিবাদী আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নজর থাকবে, বিশেষ করে গেজেট প্রকাশের পর আপত্তি নিষ্পত্তি না হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ার গতি নির্ধারণ করবে।
অবশেষে, পার্টি উল্লেখ করেছে যে, যদি ফলাফল রদবদল না হয় এবং ধর্মীয় পণ্ডিতদের ওপর হয়রানি বন্ধ না হয়, তবে জাতীয় স্তরে বৃহৎ প্রতিবাদ ও আইনগত লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তদারকি প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলবে।



