22.7 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে রড্রিগো দুতের্তের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ শোনার অধিবেশন

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে রড্রিগো দুতের্তের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ শোনার অধিবেশন

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রড্রিগো দুতের্তের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ শোনার জন্য প্রথম অধিবেশন শুরু করেছে। দুতের্তে, যিনি ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তার ‘মাদক যুদ্ধ’কে কেন্দ্র করে মামলার মূল প্রশ্ন হল তিনি আদালতে উপস্থিত হতে হবে কিনা।

দুতের্তের পরিচালিত ‘মাদক যুদ্ধ’ চলাকালে শহরের মেয়র এবং পরে রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন হাজার হাজার সন্দেহভাজন মাদক বিক্রেতা, ব্যবহারকারী এবং অন্যান্য ব্যক্তির উপর বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলি দাবি করে। এই অভিযানকে ‘যুদ্ধ’ বলে চিহ্নিত করা হলেও, এর ফলে ব্যাপক নাগরিক মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটররা কমপক্ষে ৭৬টি হত্যাকাণ্ডে দুতের্তের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন এবং তাকে তিনটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তি করে আদালত পূর্ণাঙ্গ ট্রায়াল চালু করার সম্ভাবনা যাচাই করবে।

দুতের্তে, ৮০ বছর বয়সী, আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ছিলেন, তবু তিনি মাদক ব্যবহারকারীদের ‘মিলিয়ন’ সংখ্যক মানুষকে হত্যা করতে ইচ্ছুক বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন। তিনি দেশের ধ্বংসের দায়িত্বে মাদক ব্যবহারকারীদের দোষারোপ করে কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

প্রসিকিউটর মামে নিয়াং আদালতে উল্লেখ করেন যে, ‘মাদক যুদ্ধ’ ফলে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে, যার মধ্যে শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত। তিনি এই ঘটনাগুলোকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করে দায়িত্বশীলকে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

দুতের্তে নিজে আদালতে উপস্থিত হওয়ার অধিকার ত্যাগ করে জানান যে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্তৃত্ব স্বীকার করেন না। তার আইনজীবীও একইভাবে তার নির্দোষতা দাবি করে আদালতে তার অবস্থান বজায় রাখার কথা জানান।

এই শুনানি চার দিনব্যাপী চলবে, এবং শেষের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকগণ সিদ্ধান্ত নেবেন যে পূর্ণাঙ্গ ট্রায়ালের জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে কিনা। সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।

দুতের্তে ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, যেখানে তিনি অবৈধ মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেন। তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ‘রাস্তার অপরাধ নির্মূল’ এবং ‘শান্তি ও শৃঙ্খলা’ বজায় রাখা।

দাভাও শহরের মেয়র হিসেবে তার কঠোর নীতি এবং ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি তাকে ‘শহরের রক্ষক’ হিসেবে পরিচিত করিয়ে দেয়। তিনি দাবি করেন যে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিনিয়োগ আকর্ষণের মূল চাবিকাঠি।

বিপরীত মতামত সত্ত্বেও, মাদক সমস্যায় ভুগছে এমন দেশের জনগণের মধ্যে দুতের্তের জনপ্রিয়তা উচ্চ ছিল। তিনি নিজেকে ম্যানিলা এলিটের বাইরে থেকে আসা রাজনৈতিক বহিরাগত হিসেবে উপস্থাপন করে প্রদেশীয় জনগণের সমর্থন জয় করেন।

দুতের্তের রেটোরিক্স প্রায়ই চরম এবং বিতর্কিত ছিল; তিনি মাদক ব্যবহারকারীদের ‘দেশের শত্রু’ বলে অভিহিত করে তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দেন। তার এই রকম মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার কারণ হয়েছে।

শুনানির সমাপ্তির পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নির্ধারণ করবে যে দুতের্তের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ ট্রায়াল চালু করা সম্ভব কিনা, যা ফিলিপাইনের রাজনৈতিক ও আইনি পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments