স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার সচিবালয়ের নিজের দপ্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি পুলিশের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ না রাখার কথা জোর দিয়ে বললেন।
মন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল পুলিশ বিভাগের কাজের স্বতন্ত্রতা রক্ষা করা। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কার্যক্রমে রাজনৈতিক দিক থেকে কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না এবং এ ধরনের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনকালে যে অস্ত্র লাইসেন্সগুলো প্রদান করা হয়েছিল, সেগুলোর বৈধতা ও প্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই করা হবে বলে তিনি জানান। লাইসেন্সপ্রাপ্তদের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয়তা ও প্রক্রিয়ার সঠিকতা পর্যালোচনা করে অযথা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
মন্ত্রীর মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কিছু সুবিধাবাদী গোষ্ঠী নিরীহ নাগরিকদের ওপর আঘাত হানার অভিযোগে মামলায় জড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার তদন্তে পুলিশকে সম্পূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফলাফল জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিডিআর (ব্রিগেডি ডিফেন্স রেজিমেন্ট) হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিয়ে পুনরায় একটি কমিশন গঠন করা হবে। নতুন কমিশনকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিষয়টি বিশ্লেষণ করে সুপারিশ প্রস্তুত করতে হবে, যার ভিত্তিতে বিচারিক প্রক্রিয়া চালু হবে। এই প্রতিশ্রুতি সরকারী নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৬ সালে নিয়োগবঞ্চিত সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই)দের পুনরায় নিয়োগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি সংক্ষিপ্তসার তৈরি করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই ফাইলের অনুমোদন না হওয়ার কারণ স্পষ্ট না থাকলেও, তদন্তের মাধ্যমে আদালতের নির্দেশ অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অস্ত্র লাইসেন্সের পুনঃপর্যালোচনার পাশাপাশি, মন্ত্রীর দৃষ্টিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাজের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না হলে জনসাধারণের বিশ্বাস হারিয়ে যাবে।
পুলিশ বিভাগের ওপর আরোপিত নতুন দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ৫ আগস্টের পরের ঘটনাগুলোর বিস্তারিত রিপোর্ট প্রস্তুত করা এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মন্ত্রীর মতে, এই রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃকমিশন গঠনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রীর উল্লেখ আছে যে, এই কমিশনের সুপারিশ অনুসারে বিচারিক প্রক্রিয়া চালু হবে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি এটিকে দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ২০০৬ সালের নিয়োগবঞ্চিত এসআইদের পুনরায় নিয়োগের প্রস্তাবের ফাইলটি কেন অনুমোদিত হয়নি তা স্পষ্ট না হলেও, বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হবে।
মন্ত্রীর শেষ মন্তব্যে তিনি বাংলাদেশ সরকারের ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ না রেখে দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।



