মেক্সিকোর জালিস্কো রাজ্যে ফেডারেল অপারেশনে নেমেসিও “এল মেনচো” ওসেগুয়েরা সেরভান্তেসের মৃত্যু ঘটার পর, সিজিএনজি (কার্টেল দে জালিস্কো নুয়েভা জেরাসাও) সমগ্র অঞ্চলে রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল সরকারী হস্তক্ষেপের প্রতিক্রিয়া জানানো এবং তাদের ক্ষমতা প্রদর্শন করা।
অপারেশনটি ফেডারেল নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত হয় এবং এল মেনচোকে লক্ষ্যবস্তু করে সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুর পর সিজিএনজি দ্রুতই প্রতিবাদমূলক কর্মসূচি চালু করে, যার মধ্যে রাস্তায় গাড়ি, বাস, ট্যাক্সি দহন এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগানো অন্তর্ভুক্ত।
ব্লকেডের পরিসর গুয়াদালাহারার কেন্দ্রীয় অংশ থেকে পুয়ের্তো ভ্যালার্টারার উপকূলীয় শহর পর্যন্ত বিস্তৃত। বিশেষ করে গাড়ি ও বাস দহন করে তৈরি করা “নারকোব্লকেড” নামে পরিচিত কৌশলটি বহুবার ব্যবহার করা হয়েছে। এই সময়ে সিজিএনজি সদস্যরা বড় বড় শপিং সেন্টার, কোস্টকোসহ ছোট দোকানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে অগ্নিকাণ্ড চালায়।
রাতের পরদিন, গুয়াদালাহারার কাছাকাছি, সের্জিও “চেকো” পেরেজের নামে গঠিত গোকার্ট ট্র্যাকের পাশে এক মাইলের কম দূরত্বে একটি বাস দহনে জ্বলে ওঠে। এই ঘটনার ফলে প্রধান প্রবেশদ্বারটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা স্টেডিয়াম এক্সটেডিয়ো আক্রনকে ঘিরে চলমান ট্রাফিক সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
রাজ্য সরকার দ্রুত রেড অ্যালার্ট প্রোটোকল প্রয়োগ করে, যা সাধারণ নাগরিকদের চলাচল সীমিত করে এবং বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেয়। ফলস্বরূপ, বার, রেস্টুরেন্ট এবং অন্যান্য পাবলিক স্থাপনাগুলি বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়লেও, জনসাধারণের দৈনন্দিন কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত দেখা যায়।
ক্রীড়া ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ে। গুয়াদালাহারার চিভাস ও ক্লাব আমেরিকার মহিলা দলগুলোর মধ্যে নির্ধারিত ক্লাসিকো নাসিওনাল ম্যাচটি স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে, কুয়েরেতারোর ২০০ মাইল দূরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া লিগা এমএক্স ম্যাচটিও বাতিল করা হয়। যদিও কুয়েরেতারোতে কোনো নারকোব্লকেডের নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও, সিজিএনজি ও তার সহযোগীরা কমপক্ষে আটটি রাজ্যে রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করেছে বলে জানা যায়।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালীন, গুয়াদালাহারার একমাত্র প্রধান রাস্তাটি স্টেডিয়াম এক্সটেডিয়ো আক্রনের দিকে নিয়ে যায়, যেখানে চিভাস দে গুয়াদালাহারা ক্লাবের ঘর। এই স্টেডিয়াম ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে চারটি ম্যাচের আয়োজক হবে। তাই ট্রাফিক জ্যাম ও নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি বিশেষভাবে তীব্র হয়ে ওঠে।
অধিকাংশ বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এখন প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে কর্তৃপক্ষ এই ধরনের হিংসাত্মক প্রতিবাদকে নিয়ন্ত্রণ করে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে। ফেডারেল ও রাজ্য স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে সিজিএনজি’র বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও তাদের দ্রুতগতির ব্লকেডের ক্ষমতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
সারসংক্ষেপে, এল মেনচোর মৃত্যুর পর সিজিএনজি জালিস্কো জুড়ে রাস্তায় বাধা, দহন এবং ব্যবসা বন্ধের মাধ্যমে বিশাল অশান্তি সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি কেবল স্থানীয় নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করেনি, বরং বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিচালনা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ উত্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, তা আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ও মেক্সিকোর সরকার উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



