অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কীয়ার স্টারমারের কাছে চিঠি লিখে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসরকে রাজসিংহাসন উত্তরাধিকার থেকে বাদ দেওয়ার কোনো প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছেন। এই পদক্ষেপটি অ্যান্ড্রু সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ঘটনার পর নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি পাবলিক অফিসে অনিয়মের সন্দেহে গ্রেফতার হয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই বিষয়কে গুরুতর বলে বিবেচনা করে, তাই যুক্তরাজ্যের আইনসভার অনুমোদন প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলবানিজের চিঠিতে তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন, “অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসরকে উত্তরাধিকার থেকে বাদ দেওয়ার যে কোনো প্রস্তাবের জন্য আমার সরকার সমর্থন করবে” এবং যুক্তরাজ্যের আইনগত প্রক্রিয়ার পূর্ণতা ও ন্যায়সঙ্গত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে দেন যে অস্ট্রেলিয়ান জনগণ এই অভিযোগকে গম্ভীরভাবে গ্রহণ করে এবং যথাযথ পদক্ষেপের প্রত্যাশা করে।
অ্যান্ড্রু, যিনি রাজা চার্লসের ছোট ভাই, অক্টোবর মাসে তার প্রিন্সের পদবীসহ বেশ কয়েকটি উপাধি থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন, তবে এখনও সিংহাসনের আট নম্বর উত্তরাধিকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত। তার শিরোনাম বাতিলের পেছনে রয়েছে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সংযোগ, যাকে যৌন শোষণের জন্য দায়ী করা হয়েছে। এই সংযোগের ফলে অ্যান্ড্রুর প্রতি জনমত ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ে, যা তার উত্তরাধিকারিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
যুক্তরাজ্যের সরকার বর্তমানে অ্যান্ড্রুকে উত্তরাধিকার থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আইন প্রণয়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এই প্রস্তাবটি অ্যান্ড্রুর গ্রেফতারের পর ত্বরান্বিত হয়েছে, যেখানে তিনি পাবলিক অফিসে অনিয়মের সন্দেহে আটক হয়েছিলেন। গ্রেফতারের পর ১১ ঘণ্টা পর থেমস ভ্যালি পুলিশ তাকে মুক্তি দেয়, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছেন।
অ্যান্ড্রুর গ্রেফতারের পর রাজা চার্লস জনসাধারণের সামনে একটি বিবৃতি দিয়ে বলেন, “এখন সম্পূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, যাতে এই বিষয়টি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা যায়”। এই মন্তব্যটি যুক্তরাজ্যের সরকারকে আইনগত পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছে এবং জনমতকে শান্ত করার উদ্দেশ্য প্রকাশ করেছে।
অ্যান্ড্রুকে উত্তরাধিকার থেকে বাদ দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের সংসদে একটি বিশেষ আইন পাস করতে হবে। এই আইনটি হাউস অব কমন্স ও হাউস অব লর্ডসের উভয়ই অনুমোদন পেতে হবে, এরপর রাজা চার্লসের রয়্যাল অ্যাসেন্টের মাধ্যমে কার্যকর হবে। আইনটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অ্যান্ড্রু তার বর্তমান অবস্থান বজায় রাখবে।
অস্ট্রেলিয়া সহ ১৪টি কমনওয়েলথ দেশ, যেখানে রাজা চার্লস রাষ্ট্রপ্রধান, তাদের সমর্থনও এই প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। অস্ট্রেলিয়ার সরকার ইতিমধ্যে তার সমর্থন প্রকাশ করেছে, যা অন্যান্য কমনওয়েলথ সদস্য দেশগুলোর কাছেও অনুরূপ প্রতিক্রিয়া আশা করা হচ্ছে। এই সমর্থন ছাড়া যুক্তরাজ্যের আইনসভার অনুমোদন একা যথেষ্ট নাও হতে পারে।
বাকিংহাম প্যালেস এখনো অ্যান্ড্রুকে উত্তরাধিকার থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো সরকারি মন্তব্য করেনি। তবে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ আলোচনার সূচনায় এই বিষয়টি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, অ্যান্ড্রু সম্পর্কিত এই বিতর্ক কমনওয়েলথের ঐক্য ও রাজপরিবারের মর্যাদার ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন যুক্তরাজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত, যা দেখায় যে কমনওয়েলথের সদস্য দেশগুলো এই ধরনের নৈতিক ও আইনি সমস্যায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে ইচ্ছুক।
পরবর্তী ধাপে যুক্তরাজ্যের সংসদে এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ও ভোট হবে, এবং কমনওয়েলথের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন সংগ্রহ করা হবে। অস্ট্রেলিয়ার সরকার ইতিমধ্যে তার সমর্থন চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে, তাই ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশগুলোর মতামতও প্রকাশ পাবে।
এই প্রক্রিয়া শেষ হলে অ্যান্ড্রু আর সিংহাসনের উত্তরাধিকারিক তালিকায় থাকবে না, যা রাজপরিবারের কাঠামোতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাবে। একই সঙ্গে, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাজ্যের আইনগত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা শক্তিশালী হবে।



