রবিবার রাতের দিকে পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর একটি সিরিজ আক্রমণ আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চালু হয়। পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে নানগারহার, পাকতিকা ও খোস্ত প্রদেশে তেহরিক‑ই‑তালেবান (টিটিপি) ও তার সমর্থক গোষ্ঠীর সাতটি ক্যাম্প ও গোপন আশ্রয়স্থল লক্ষ্য করে বিমান বোমা ফেলা হয়েছে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের মতে এই হামলায় ৮০‑এরও বেশি সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে।
পাকিস্তান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রোববার সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করে যে, টিটিপি-সম্পর্কিত সাতটি কেন্দ্র—নানগারহারের এক ও দুই নম্বর নতুন কেন্দ্র, খোস্তে মৌলভি আব্বাস কেন্দ্র, ইসলাম সেন্টার, নানগারহারে ইব্রাহিম কেন্দ্র এবং পাকতিকায় মোল্লা রাহবার ও মুখলিস ইয়ার—বিমান হামলার ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয় যুক্তি দেয় যে, এই আক্রমণ পাকিস্তানে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে।
অফগানিস্তানের সরকার এই আক্রমণকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। কাবুলের তেহরিক‑ই‑তালেবান শাসন বলেছে, পাকিস্তানি বোমা হামলায় বহু বেসামরিক ঘরবাড়ি এবং একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেজবাহের মুখে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লক্ষ্যবস্তু গুলোর মধ্যে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবকাঠামো নয়, বরং সাধারণ নাগরিকদের বসবাসের স্থান অন্তর্ভুক্ত।
পাকিস্তান মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক পাকিস্তানি শহরে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলাগুলোর পেছনে আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃবৃন্দ ও তত্ত্বাবধায়কদের নির্দেশনা রয়েছে, এমন প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। এই প্রমাণের ভিত্তিতে পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত টিটিপি ক্যাম্পগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও নাগরিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়।
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের মতে, গত সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন শহরে আত্মঘাতী বোমা হামলা ঘটেছিল, যার ফলে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়। এই হামলাগুলোকে টিটিপি ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর দায়ী করা হয়েছে, ফলে পাকিস্তান সরকার সীমান্তে অবস্থিত শিবিরগুলোকে লক্ষ্য করে সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য বোধ করেছে।
কাবুলের তেহরিক‑ই‑তালেবান সরকার পাকিস্তানের এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও সার্বভৌমত্বের হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তেহরিক‑ই‑তালেবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশ্যে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এমন পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সংবেদনশীল সীমান্ত সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। সীমান্তে অবস্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং পারস্পরিক আক্রমণ উভয় দেশের নিরাপত্তা নীতিকে জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে, টিটিপি-কে পাকিস্তানীয় সশস্ত্র বাহিনীর সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা পূর্বে সীমান্তে সংঘর্ষের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে, যা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দু’দেশকে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলোকে শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহায়তা করার পরামর্শ দিয়েছেন। পরবর্তী সপ্তাহে কাবুল ও ইসলামাবাদে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে সীমান্তে সশস্ত্র কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের উচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



