মন্ত্রণালয় অব বিদেশি বিষয়ের প্রধান খালিলুর রহমান গতকাল ঢাকা শহরের মন্ত্রণালয় ভবনে সাংবাদিকদের সামনে নতুন সরকারের বিদেশ নীতি ও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সফরের বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিদেশি দূতাবাসের প্রধানদের সঙ্গে একাধিক সাক্ষাৎকারের পর সরকারকে নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সকালবেলা তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত মাইকেল মিলারের সঙ্গে আলাপ করেন। দুজনেই নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো ঢাকা ভ্রমণ করে কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন।
এর আগে চীন, ভারত এ, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের দূতাবাসের প্রধানরাও খালিলুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। এই পরিদর্শনগুলোকে তিনি কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকে খালিলুর ধারাবাহিকভাবে বিদেশি দূতাবাসের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক চালিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, এসব বৈঠকে নতুন সরকারের বিদেশ নীতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বৈঠকের সময় তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সরকারের বিদেশ নীতি সংক্রান্ত মূল দিকগুলোকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছি”। এই বিবরণে তিনি উল্লেখ করেন যে, বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে নতুন সরকারের প্রতি বিশাল আস্থা দেখা গেছে।
খালিলুর আরও যোগ করেন, “বহু দূতাবাসের প্রতিনিধিরা আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন”। তিনি এই আস্থাকে সরকারের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়ানোর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সরকারের মৌলিক নীতি হিসেবে তিনি “বাংলাদেশ প্রথম, বাংলাদেশ সর্বোচ্চ” ঘোষণা করেন। এই নীতি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ বিষয়ের অ-হস্তক্ষেপ, পারস্পরিক লাভ এবং জাতীয় গৌরবকে ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।
এছাড়া তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আমাদের সকল বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে, অঞ্চলীয় হোক বা বৈশ্বিক, গভীর ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই”। এই লক্ষ্যকে অর্জনের জন্য তিনি কূটনৈতিক সংলাপকে অগ্রাধিকার দেবার কথা উল্লেখ করেন।
দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো সমাধানে তিনি বলেন, “আমরা সম্মানজনক পদ্ধতিতে, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে, উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে সমস্যাগুলো সমাধান করব”। এই বক্তব্যে তিনি বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের শেষে তিনি ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পথের প্রতি আশাবাদী হয়ে বলেন, “এখন পর্যন্ত যে আলোচনা হয়েছে তার ভিত্তিতে আমরা গতিশীল বিদেশ নীতি অনুসরণ করতে সক্ষম হব”। তিনি উল্লেখ করেন, আজ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো কেবল শিষ্টাচারিক সফর ছিল এবং কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়নি।



