ময়মনসিংহের গাঙ্গিনারপাড়া শিববাড়ি এলাকায় ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও টায়ার দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ চালায়। এই কর্মে আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর মোহাম্মদ আয়াস নেতৃত্ব দেন এবং সঙ্গে শ্রমিকসহ চারজন সহযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবাদকারীরা গেটের পাশে অবস্থিত একটি জানালা শক্তভাবে ভেঙে ফেলেন, অন্য জানালার কিছু অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর তারা টায়ার ব্যবহার করে জানালার চারপাশে অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে কার্যালয়ের কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেন। কর্মসূচির সময় কিছু অংশে তাপের কারণে গ্লাস ভেঙে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য তৈরি হয়।
প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে স্থানীয় পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে টায়ারের আগুন নিভিয়ে ভাঙচুর থামায়। তৎক্ষণাৎ উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের তোপের মুখে রাখেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
আল নূর মোহাম্মদ আয়াস ভাঙচুরের পেছনের মূল কারণ হিসেবে ১৯ জুলাই রেদওয়ান হোসেনের হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করেন, যাকে তিনি আওয়ামী লীগের দোসররা প্রকাশ্যে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “যে দল এখনো রেদওয়ান হোসেনের হত্যাকারীকে মুক্তভাবে ঘুরতে দেয়, তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।” এরপর তিনি কার্যালয়কে সরকারি টয়লেট হিসেবে উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
আয়াসের মতে, রেদওয়ান হোসেনের রক্তে গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশের ভিত্তিতে ফ্যাসিবাদী উপাদানকে কোনো স্থান নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যতদিন পর্যন্ত রেদওয়ানের মতো হত্যাকারীর বিচার না হয়, ততদিন পর্যন্ত তাদের কোনো কার্যক্রমে অনুমতি দেওয়া যাবে না। আমরা তাদের হত্যা চাই না, বরং আইন অনুযায়ী শাস্তি চাই।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা আরও উল্লেখ করেন, “প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।” তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন, যা আন্দোলনের মূল দাবি হিসেবে উঠে এসেছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ভাঙচুর বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্টদের তথ্য সংগ্রহের কথা জানান। তিনি জানান, “আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুরের খবর পেয়ে তৎক্ষণাত পুলিশ পাঠানো হয় এবং ভাঙচুর বন্ধ করা হয়। যারা অংশগ্রহণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার ফলে জেলা আওয়ামী লীগের স্থানীয় শাখা প্রশাসনিকভাবে অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং টয়লেট হিসেবে ব্যবহার করার ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে সমালোচনা করতে পারে, আর সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
ভবিষ্যতে রেদওয়ান হোসেনের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা রাজনৈতিক পরিবেশের উপর বড় প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। একই সঙ্গে, আন্দোলনের এই রূপান্তরিত কৌশল—ভাঙচুরের পর পাবলিক টয়লেট ঘোষণা—স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করবে।



