যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধিভুক্ত ৫১টি ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে খেলোয়াড়দের বেতন ব্যবস্থা এবং ফেডারেশন সংহতি সংক্রান্ত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এই বৈঠকটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয় এবং ক্রীড়া নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা চালিয়ে আমিনুল হক ফেডারেশনগুলোর বর্তমান কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ফেডারেশনগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে গত বছরের কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এই তথ্যগুলো মূল্যায়ন ও পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদন সংগ্রহের পাশাপাশি, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামো গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সরকার খেলোয়াড়দের জন্য কেন্দ্রীয় চুক্তি (central contract) চালু করে তাদের বেতন নিশ্চিত করতে চায়। কোন খেলোয়াড়কে কোন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা নির্ধারণের জন্য একটি বিশদ তালিকা ফেডারেশন থেকে সংগ্রহ করা হবে।
বেতন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে হক স্পষ্ট করে বলেন, প্রস্তাবিত গ্রেডিং সিস্টেম এবং বেতন কাঠামো রোজার মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ঈদ-উল-ফিতরের পর এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। তিনি যোগ করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ক্রীড়া পেশাদারিত্বে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কেও হক স্বচ্ছতা এবং ন্যায়পরায়ণতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, নির্বাচন প্রথমে উপজেলা স্তর থেকে শুরু হয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অগ্রসর হবে, এবং শেষমেশ ফেডারেশনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এই ধাপক্রমিক পদ্ধতি নির্বাচনকে আরও উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক করতে সহায়তা করবে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে বর্তমানে মোট ৫২টি ফেডারেশন রয়েছে, যার মধ্যে কিছুই কার্যকরভাবে কাজ করছে না। হক উল্লেখ করেন, ৫১টি ফেডারেশনের মধ্যে বেশ কয়েকটি ফেডারেশন তাদের দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম। কেন কিছু ফেডারেশন কার্যকর নয়, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।
একই ধরণের খেলায় একাধিক ফেডারেশন থাকায় গঠনগত অদক্ষতা দেখা দিচ্ছে, তাই সমজাতীয় খেলাগুলোকে একক সংস্থার অধীনে আনার পরিকল্পনা চলছে। হক বলেন, এই সংহতি ক্রীড়া ব্যবস্থাপনাকে সহজতর করবে এবং সম্পদের অপচয় রোধ করবে। ফেডারেশনগুলোর কার্যক্রমের পুনর্গঠন এবং সংহতি প্রক্রিয়া আগামী মাসে শুরু হবে।
ফেডারেশনগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করে, সরকার কোন কোন খেলোয়াড়কে কোন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে তা নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ক্রীড়া কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত হবে এবং বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার দায়িত্বে থাকবে।
বেতন ব্যবস্থা এবং ফেডারেশন সংহতি পরিকল্পনা উভয়ই ক্রীড়া খাতে পেশাদারিত্ব এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। হক উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগগুলো খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ক্রীড়া পারফরম্যান্স উন্নত করবে। তিনি শেষ কথা বলেন, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতায় এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন।
এই বৈঠকের পর, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ফেডারেশনগুলোর কার্যক্রমের পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে, সরকার বেতন ব্যবস্থা সংক্রান্ত নীতিমালা দ্রুত অনুমোদন করে খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে অগ্রসর হবে।



