ইউরোপীয় ইউনিয়নের রায়দূত মাইকেল মিলার আজ ঢাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন সরকার গঠনের পর চালু থাকা সংস্কারগুলো অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকার যদি বিচার সংস্কার, বাণিজ্যিক আদালত গঠন এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়মিত করার কাজ চালিয়ে যায়, তবে দু’দেশের সম্পর্কের সম্ভাবনা আরও প্রসারিত হবে। এই মন্তব্যগুলো আজকের সংবাদ সম্মেলনে করা হয়, যেখানে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হয়েছে।
মিলার রায়দূত উল্লেখ করেন, বিচার সংস্কার এবং বাণিজ্যিক আদালতের প্রতিষ্ঠা দেশের আইনি পরিবেশকে স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়মিত করার উদ্যোগ শ্রমিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং উভয় দেশের নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করবে। এই সংস্কারগুলোকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশেষভাবে গুরুত্বের সাথে দেখছে, কারণ সেগুলো সরাসরি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশকে প্রভাবিত করে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দৃষ্টিতে এই সংস্কারগুলোকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা দুই দেশের সম্পর্কের পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচনের চাবিকাঠি। রায়দূত মিলার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু করতে এবং সহযোগিতা তীব্রতর করতে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্য অংশীদার, যা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সহায়তা এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ ভূমিকা পালন করে।
মিলার এবং অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের রায়দূতরা পররাষ্ট্র মন্ত্রী খালিলুর রহমান ও রাষ্ট্র মন্ত্রী শামা ওবায়েদকে মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান। এই সাক্ষাতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংস্কার, বাণিজ্য, মানবিক সহায়তা এবং অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। রায়দূত মিলার উল্লেখ করেন, এই আলোচনার মাধ্যমে দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রগুলো স্পষ্ট হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার দিক নির্ধারণ করা হয়েছে।
মিলার আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে পার্টনারশিপ ও কোঅপারেশন চুক্তি (PCA) চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি আশাবাদী যে শীঘ্রই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। চুক্তির স্বাক্ষরকে উভয় দেশের জন্য বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগমূলক সুযোগ বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া, রায়দূত মিলার জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি হল মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান। তিনি উল্লেখ করেন, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষা করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি এবং এই নীতিগুলোকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সেই দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের রায়দূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনও একই মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও রাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন সরকার যদি এই সংস্কারগুলোকে ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করে, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা বাড়বে। সংস্কারগুলোর সফলতা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন চুক্তি ও প্রকল্পের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে, যা দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সারসংক্ষেপে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রায়দূত মাইকেল মিলার নতুন বাংলাদেশ সরকারের কাছে চলমান সংস্কারগুলোকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই প্রত্যাশা এবং পার্টনারশিপ চুক্তির স্বাক্ষরের সম্ভাবনা উভয় দেশের জন্য অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নির্দেশ করে।



