রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ প্রকাশ্যে জানান, অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করার সময় তাকে অবহিত করেনি, যা সংবিধানিক দায়িত্বের লঙ্ঘন। এই অভিযোগের ফলে caretaker সরকারের কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে।
সংবিধানের ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক মার্কিন সরকারের সঙ্গে চুক্তি এই প্রক্রিয়ার ব্যতিক্রম হিসেবে স্বীকৃত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে তাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে বাদ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি নিয়ে কোনো সমন্বয় করা হয়নি, যা তার মতে সংবিধানিক প্রয়োজনীয়তা লঙ্ঘন করে।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, তিনি প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগের প্রক্রিয়ার মূল সূত্র ছিলেন, তবে উপদেষ্টা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। উপদেষ্টা একবারও তার কাছে এসে বিষয়টি আলোচনা করেননি, এ কথাটি তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
অধিকন্তু, রাষ্ট্রপতি জানান, তার পরিকল্পিত দুইটি বিদেশ সফর অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের আদেশে বাতিল করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় দেশের অংশগ্রহণ সীমিত হয়েছে।
একই সময়ে, তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি বন্ধ করা হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনে বক্তৃতা দেন, তবে এই বছর তার অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই অভিযোগগুলো রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির অবহিত না করা সংবিধানিক চেক‑এন্ড‑ব্যালান্সের মৌলিক নীতি ক্ষুণ্ন করে এবং caretaker সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থকরা যুক্তি দেন, জরুরি কূটনৈতিক বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন, এবং রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক ভূমিকা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত। তবে প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকে এখনো কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
মার্কিন সরকারও এই চুক্তি সম্পর্কে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেনি। সূত্র অনুযায়ী, চুক্তিটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত, তবে বিস্তারিত তথ্য এখনও গোপন রাখা হয়েছে।
আইনি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সংবিধান স্পষ্টভাবে জাতীয় স্বার্থে প্রভাব ফেলা চুক্তির জন্য রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রয়োজন। যদি রাষ্ট্রপতির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে caretaker ক্যাবিনেটের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই বিতর্ক caretaker প্রশাসন ও নির্বাচিত নেতৃত্বের মধ্যে ইতিমধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা আসন্ন সংসদীয় সেশনে প্রভাব ফেলবে।
রাষ্ট্রপতি শেষ করে বলেন, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান এবং প্রয়োজন হলে সংবিধানিক উপায়ে বিষয়টি সমাধান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়টি আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।



