সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে ২,৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সামনে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে পরিকল্পনার পটভূমি ও বাস্তবায়নের সময়সূচি তুলে ধরেন।
বক্তব্যের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই নিয়োগের আদেশ দ্রুতগতিতে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, কনস্টেবল পদে নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে, যাতে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ ত্বরিতভাবে পুলিশ বাহিনীতে যুক্ত করা যায়।
এছাড়া, তিনি অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে প্রদত্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সগুলো পুনরায় যাচাই করার কথা উল্লেখ করেন। সরকার এই লাইসেন্সগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জারি করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
লাইসেন্স যাচাইয়ের কাজের মূল লক্ষ্য হবে অবৈধভাবে বা অনিয়মিতভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা অর্জন করা ব্যক্তিদের সনাক্ত করা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও সতর্কতা প্রকাশ করেন, যারা পুলিশের কাজের পথে অবৈধভাবে বাধা সৃষ্টি করবে তাদের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতি রাজনৈতিক হোক কিংবা সামাজিক, যে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা থাকবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুলিশের বৈধ কাজের পথে কোনো বাধা না দিতে হবে; আইন শাসনের নীতি রক্ষায় এ ধরনের হস্তক্ষেপের কোনো জায়গা নেই। এই নীতি অনুসরণে সরকার সকল স্তরের নাগরিক ও সংগঠনকে আহ্বান জানিয়েছেন।
২,৭০১ কনস্টেবল নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের কর্মশক্তি বাড়ানোর লক্ষ্য স্পষ্ট। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে পুলিশ কর্মী ঘাটতি রয়েছে, সেখানে নতুন নিয়োগ দ্রুত পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য সরকার একটি ফাস্ট‑ট্র্যাক সিলেকশন পদ্ধতি গৃহীত করেছে। প্রার্থীদের আবেদন, লিখিত পরীক্ষা ও শারীরিক পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে, এবং ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করা হবে।
নিয়োগের পরবর্তী ধাপ হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা যথাযথভাবে প্রস্তুত হয়ে বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত হবে, যা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।
এই পদক্ষেপটি সরকার পূর্বে নিরাপত্তা কর্মী বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে বিবেচিত। অতীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার নিয়মিতভাবে মানবসম্পদ বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, এবং আজকের এই সিদ্ধান্ত সেই ধারার ধারাবাহিকতা।
বিপক্ষের কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লেখিত নীতি ও পদক্ষেপের প্রতি সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি জানার জন্য পরবর্তী সময়ে আলোচনা হতে পারে।
সরকারের এই উদ্যোগের পরবর্তী ধাপ হবে নির্বাচিত কনস্টেবলদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা যাচাই, প্রশিক্ষণ মডিউল নির্ধারণ এবং শেষমেশ তাদের বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে স্থাপন। এভাবে নতুন মানবসম্পদ দ্রুতই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সংযোজিত হবে।



