31.6 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনপ্রদীপ কৃশেনের তিনটি চলচ্চিত্র মুম্বাইতে রেড লরি ফেস্টিভ্যালে মার্চ ১৩-১৫ প্রদর্শিত

প্রদীপ কৃশেনের তিনটি চলচ্চিত্র মুম্বাইতে রেড লরি ফেস্টিভ্যালে মার্চ ১৩-১৫ প্রদর্শিত

মুম্বাইতে ১৩ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত রেড লরি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রদীপ কৃশেনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ একসাথে দেখার সুযোগ পাবেন। রেড লরি ফেস্টিভ্যাল, যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের প্রধান মঞ্চ হিসেবে পরিচিত, এই বছর তার বিশেষ রেট্রোস্পেকটিভ প্রোগ্রামের মাধ্যমে কৃশেনের সৃষ্টিকর্মকে পুনরায় বড় স্ক্রিনে উপস্থাপন করবে।

ফেস্টিভ্যালের আয়োজকরা এই রেট্রোস্পেকটিভকে “প্রদীপ কৃশেনের চলচ্চিত্র উদযাপন” শিরোনামে নামকরণ করে তিনটি স্বতন্ত্র ছবিকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখছেন। নির্বাচিত ছবিগুলো হল “ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট থোস ওয়ানস”, “ইলেকট্রিক মুন” এবং “ম্যাসি সাহিব”। এই তিনটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকরা কৃশেনের বর্ণনামূলক শৈলী এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি সরাসরি অনুভব করতে পারবেন।

“ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট থোস ওয়ানস” ১৯৭০-এর দশকের দিল্লি ক্যাম্পাসের ছাত্রজীবনের উচ্ছ্বাস ও নীরব বিদ্রোহকে চিত্রায়িত করে। আরুন্ধতি রায়ের লেখনীকে ভিত্তি করে তৈরি এই চলচ্চিত্রে তরুণ শাহরুখ খানও একটি ছোট ভূমিকা পালন করেন, যা তার পরবর্তী ক্যারিয়ারের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়। ছবিটি তার বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরস এবং সূক্ষ্ম সামাজিক মন্তব্যের জন্য আজও স্মরণীয়।

প্রথম চলচ্চিত্রের পর, কৃশেনের ডেবিউ ফিচার “ম্যাসি সাহিব” আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশংসা অর্জন করে। রঘুবীর যাদবের অভিনয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই গল্পটি শ্রমিক শ্রেণীর সংগ্রাম ও মানবিক মর্যাদার অনুসন্ধান করে। ছবিটি বহু চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জিতেছে এবং ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে।

“ইলেকট্রিক মুন” কৃশেনের তৃতীয় উল্লেখযোগ্য কাজ, যা উপনিবেশোত্তর ভারতের সামাজিক কাঠামোকে ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে উপস্থাপন করে। চলচ্চিত্রের রঙিন দৃশ্যাবলী এবং তীক্ষ্ণ সংলাপগুলো শহরের আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের সংঘাতকে হালকা মেজাজে তুলে ধরে। এই কাজটি কৃশেনের বুদ্ধিদীপ্ত বর্ণনা শৈলীর আরেকটি উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃত।

প্রদীপ কৃশেনকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম মৌলিক নির্মাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার চলচ্চিত্রগুলো শুধু বিনোদনই নয়, সামাজিক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে। চলচ্চিত্র নির্মাণের পর তিনি প্রকৃতি সংরক্ষণে মনোনিবেশ করে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রাকৃতিকবিদদের একজন হয়ে উঠেছেন। তার এই দ্বিমুখী ক্যারিয়ার আজও তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

রেড লরি ফেস্টিভ্যালের সিইও ও ফেস্টিভ্যাল পরিচালক আশিশ সাক্সেনা বলেন, “প্রদীপ কৃশেনের ছবিগুলো ভারতীয় সিনেমায় তাদের স্বাতন্ত্র্য, বুদ্ধিমত্তা এবং সাংস্কৃতিক গভীরতার জন্য বিশেষ স্থান অধিকার করে। এই রেট্রোস্পেকটিভের মাধ্যমে আমরা নতুন এবং পুরনো উভয় দর্শকের জন্য তার কাজগুলোকে বড় পর্দায় ফিরিয়ে আনতে গর্বিত।” তিনি আরও যোগ করেন, ফেস্টিভ্যালের লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যকে স্থানীয় দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

প্রদীপ কৃশেন নিজেও এই সুযোগকে “স্বপ্নের মতো” বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “একই সময়ে তিনটি আমার চলচ্চিত্র বড় স্ক্রিনে দেখা আমার জন্য এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। রেড লরি ফেস্টিভ্যালের মুম্বাই শোয় এই ছবিগুলো ফিরে আসা সত্যিই আনন্দের বিষয়।” তার এই মন্তব্য ফেস্টিভ্যালের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

রেড লরি ফেস্টিভ্যালের সময়সূচিতে মোট ১২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। দর্শকরা বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিভিন্ন ধাঁচের সিনেমা উপভোগ করার পাশাপাশি কৃশেনের রেট্রোস্পেকটিভের অংশ হিসেবে এই তিনটি ক্লাসিক চলচ্চিত্রের পুনরায় প্রদর্শন দেখতে পারবেন। টিকিটের বুকিং এখনই বুকমাইশোয় উপলব্ধ, এবং আগামি দর্শকরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাস কিনে ফেস্টিভ্যালের সব প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন।

ফেস্টিভ্যালের শেষ দিনে, কৃশেনের চলচ্চিত্রগুলোকে সমাপ্তি জানিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চলচ্চিত্রের থিম ও প্রাসঙ্গিক সামাজিক বিষয়গুলো নিয়ে মতবিনিময় হবে। এই সেশনটি চলচ্চিত্রপ্রেমী ও গবেষকদের জন্য একটি মূল্যবান সুযোগ হিসেবে বিবেচিত। রেড লরি ফেস্টিভ্যালের এই উদ্যোগ কেবল চলচ্চিত্রের শিল্পকে সমৃদ্ধ করবে না, বরং ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Bollywood Hungama
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments