দিনাজপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকে আধুনিক টার্মিনালে রূপান্তর করা হবে এবং শ্রমিকদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করার পরিকল্পনা ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউনিয়নের সমাবেশে ঘোষিত হয়েছে। সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এই উদ্যোগের মূল দায়িত্বে আছেন এবং তিনি কর্মী পরিবারের সদস্যদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মতে, টার্মিনালের আধুনিকায়ন অবিলম্বে শুরু হবে এবং এতে অপেক্ষাকৃত নতুন সেবা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষাগত ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা প্রদানেও বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপগুলো কর্মীদের জীবনের মানোন্নয়নে সহায়ক হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ঘোষণাটি গত রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের সভাপতি মো. আব্দুল কাইয়ুমের সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক নেতার উপস্থিতি ছিল। এই সমাবেশটি শ্রমিকদের অবদানের স্বীকৃতি এবং তাদের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মন্ডল বকুল, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ শওকত আলী তোতা, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মামুনুর রশীদ এবং শ্রমিক নেতা আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম মত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্যে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্তভাবে জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের প্রাক্তন সভাপতি মো. আব্দুল হাকিম, রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি, প্রাক্তন সহ-সভাপতি সাইফুর রাজ চৌধুরী এবং বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অর্থ সচিব মো. রাশেদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। বিপ্লব ও আরশ শ্রমিক ইউনিয়নের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও সমাবেশে অংশ নেন, যা শ্রমিক গোষ্ঠীর বিস্তৃত সমর্থনকে নির্দেশ করে।
সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের এই ঘোষণায় স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিদ্যায় নতুন দিকনির্দেশনা দেখা যায়। তিনি যেহেতু দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য, তার এই উদ্যোগটি শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, বিএনপি নেতাদের অংশগ্রহণ এবং সমর্থন দেখায় যে এই প্রকল্পটি একক দলীয় নয়, বহুপক্ষীয় সমর্থন পেয়েছে।
আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত করা বাকি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানানো হয়েছে যে কাজটি শীঘ্রই শুরু হবে। টার্মিনালের পুনর্নবীকরণে নতুন ডিজিটাল টিকিটিং সিস্টেম, পর্যাপ্ত অপেক্ষা ঘর এবং নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শ্রমিকদের পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সুবিধা প্রদান করার পরিকল্পনাও একই সঙ্গে কার্যকর করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা ভাতা এবং অন্যান্য সামাজিক কল্যাণে প্রবেশ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের এই ঘোষণার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের সময়সূচি নির্ধারণ এবং তহবিল সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, টার্মিনালের আধুনিকায়ন এবং শ্রমিকদের কল্যাণমূলক উদ্যোগ দুটোই একসাথে বাস্তবায়িত হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলটির পরিবহন ব্যবস্থা ও সামাজিক উন্নয়নে স্থায়ী প্রভাব পড়ে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দিনাজপুরের বাস টার্মিনালকে আধুনিক মানে উন্নীত করা এবং শ্রমিকদের পরিবারকে সমন্বিত সহায়তা প্রদান করা হবে, যা স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।



