ইদুল ফিতরের ছুটির ঘোষণা অনুসারে, সরকারি কর্মচারীরা ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে ২৩ মার্চ (সোমবার) পর্যন্ত পাঁচ দিন সরকারি ছুটি পাবেন। এই ছুটির সঙ্গে শবে কদরের একদিনের ছুটি (১৭ মার্চ) যুক্ত হলে, ১৮ মার্চ (বুধবার) যদি অতিরিক্ত একদিনের ছুটি নেওয়া হয়, তবে টানা সাত দিন অবকাশ নিশ্চিত হবে।
বাংলাদেশ সরকার এই বছর ইদুল ফিতরের ছুটিকে মোট পাঁচ দিন নির্ধারণ করেছে এবং চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ (শনিবার) উদযাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারী ছুটির তালিকায় শবে কদরের ছুটি ১৭ মার্চ (রবিবার) পূর্বে অন্তর্ভুক্ত, যা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত।
যদি সরকারি কর্মচারীরা ১৮ মার্চ (বুধবার) একদিনের অতিরিক্ত ছুটি নেন, তবে ১৯ থেকে ২৩ মার্চের সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা সাত দিনের দীর্ঘ বিশ্রাম পাবেন। এই ধারাবাহিক ছুটি কর্মীদের ঈদ উদযাপনের পাশাপাশি পারিবারিক সমাবেশের সুযোগ দেবে।
ইদুল ফিতরের পরপরই ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে, যা সরকারি ছুটির তালিকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত। স্বাধীনতা দিবসের পর ২৭-২৮ মার্চ (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে, ফলে ছুটির ধারাবাহিকতা আরও বাড়বে।
যদি কর্মচারীরা ২৪ ও ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার ও বুধবার) দুই দিন নৈমিত্তিক ছুটি নেন, তবে ইদুল ফিতরের পাঁচ দিন, শবে কদরের এক দিন, এবং স্বাধীনতা দিবসের এক দিন মিলিয়ে মোট দশ দিনের অবকাশ অর্জন করা সম্ভব হবে। এই পরিকল্পনা কর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিশ্রাম এবং পুনরুজ্জীবনের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বিপক্ষের কিছু সদস্য দীর্ঘ ছুটির ফলে সরকারি সেবা ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, ধারাবাহিক ছুটির সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজের অগ্রগতি ধীর হতে পারে এবং তা জনসেবা প্রদানকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে, ধর্মীয় ও জাতীয় ছুটির গুরুত্ব বিবেচনা করে এই সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে।
এই ছুটির ব্যবস্থা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ ছুটির ফলে কর্মীদের মনোবল বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও, সরকারী কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত কর্মী ব্যাবস্থাপনা প্রয়োজন হতে পারে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ সরকার ইদুল ফিতর, শবে কদর, স্বাধীনতা দিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটিকে একত্রিত করে সর্বোচ্চ দশ দিনের অবকাশের সুযোগ তৈরি করেছে। সরকারি কর্মচারীরা এই সময়সূচি অনুসারে ছুটি পরিকল্পনা করে পরিবার ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন, আর রাজনৈতিক দলগুলো এই ছুটির প্রভাব নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।



