দুই দশকের বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক টি২০ অভিজ্ঞতা নিয়ে নিউজিল্যান্ড টুয়েন্টি২০ বিশ্বকাপের সুপার‑এট গ্রুপে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ২০২১ সালের ফাইনালিস্ট দল, যা শেষবারের টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্যায়ে বাদ পড়েছিল, এখন শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটো অপরিহার্য জয় সংগ্রহের চেষ্টা করছে। শনিবারের পাকিস্তান‑বিরুদ্ধ ম্যাচের বৃষ্টির কারণে রেইডার বাতিল হওয়ায় এই দুই ম্যাচই টুর্নামেন্টে অগ্রসর হওয়ার একমাত্র সুযোগ।
অলরাউন্ডার ড্যারেল মিচেল, ৩৪ বছর বয়সী, টিমের নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডকে ভারত এ-র ভক্তদের “দ্বিতীয় প্রিয় দল” হিসেবে গণ্য করা হয় এবং দেশের সমর্থন “খুবই চমৎকার”। মিচেল আশা প্রকাশ করেন, “ভারত এ-র বিপক্ষে যখন আমরা নীল সমুদ্রের মুখোমুখি হই, তখন সেই সমুদ্রকে কালো শার্টে রূপান্তরিত করতে পারি”। এই মন্তব্যে তিনি ভারত এ-র ভক্তদের উত্সাহকে নিজেরা ব্যবহার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দলকে প্রথমে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হতে হবে, যা কলম্বোর ঘূর্ণায়মান পিচে অনুষ্ঠিত হবে। মিচেল উল্লেখ করেন, নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়রা দ্রুত, বাউন্সি এবং ঘাসে ঢাকা পিচে বড় হয়ে উঠেছে, যা তাদের জন্য সুবিধাজনক। “এই ধরনের পিচে আমাদের অভিজ্ঞতা আমাদের কৌশল গঠনে সহায়তা করবে,” তিনি বলেন। দুই দিন পর ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচ নির্ধারিত, যেখানে একই ধরনের পিচের চ্যালেঞ্জ থাকবে।
মিচেল টিমের বর্তমান ফোকাসকে প্রথম অগ্রাধিকার দেন। তিনি জানান, “ট্রফি জয় করা চমৎকার হবে, তবে এখন থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক ক্রিকেট খেলা বাকি আছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের শক্তি হল বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ রাখা, অতিরিক্ত দূরদর্শিতা না করা এবং পরিস্থিতি অতিরিক্ত বড় করে তোলা নয়।” এই দৃষ্টিভঙ্গি দলকে মানসিকভাবে স্থিতিশীল রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।
ড্যারেল মিচেল টি২০ আন্তর্জাতিক স্তরে ২০১৯ সালে ডেবিউ করে এখন পর্যন্ত ১০০ ম্যাচে ১,৮৫৬ রান সংগ্রহ করেছেন। তার ভূমিকা এখন ফিনিশার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ, যা মূলত টিমের ওপেনার টিম সিফার্ট ও ফিন অ্যালেনের আক্রমণাত্মক শৈলীর কারণে। মিচেল বলেন, “উপরের ‘বাশ ব্রাদার্স’ চমৎকার পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এবং পুরো টুর্নামেন্টে তা অব্যাহত রেখেছে।” তিনি টিমের ব্যালেন্সের কথাও উল্লেখ করেন, “পাওয়ারপ্লে গুরুত্বপূর্ণ, তবে মাঝের ওভারে স্পিনের ভূমিকা ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।” এই বিশ্লেষণ টিমের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা যায়।
নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য স্পষ্ট: সুপার‑এট গ্রুপ থেকে বেরিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছানো এবং প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জয় করা। তবে মিচেল সতর্ক করেন, “এখন থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক ম্যাচ বাকি, তাই আমাদের মনোযোগ বর্তমানের প্রতিটি গেমে রাখতে হবে।” শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে আসন্ন ম্যাচগুলো টিমের কৌশল, অভিজ্ঞতা এবং ভারত এ-র সমর্থনকে পরীক্ষা করবে। যদি দুইটি জয় নিশ্চিত হয়, তবে নিউজিল্যান্ডের টি২০ বিশ্বকাপের যাত্রা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।



