হালিশহর, চট্টগ্রাম‑এর হালিমা মঞ্জিল এলাকায় আজ সকালবেলায় গ্যাস লিকের সন্দেহে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঘটনায় একাধিক পরিবার সদস্য গুরুতর পোড়া এবং শ্বাসনালীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন।
বিস্ফোরণটি দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ঘটেছে, যেখানে সেহরির খাবার এখনও টেবিলে সাজানো ছিল। পরিবারটি ফজরের নামাজের আগে একসঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করছিল।
মোঃ সুমন, যিনি দুই সপ্তাহ আগে পর্তুগাল থেকে ফিরে এসেছিলেন, তার দুই ভাই এসএম শাখাওয়াত হোসেন এবং শিপন তার সঙ্গে ছিলেন। তারা সকলেই একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন, যা ঈদ‑এর আগে আত্মিক শুদ্ধি ও পারিবারিক মিলনের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
বিস্ফোরণের ফলে মোট নয়জন পরিবার সদস্য আহত হয়েছে। মোঃ সুমন, তার স্ত্রী পাখি, সন্তান আনাস (৭) ও আয়েশা (৪), এসএম শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী নূর জাহান বেগম রানি, সন্তান শাওন (১৭) ও উম্মে আয়মান (১০), এবং শিপন (৩২) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন।
গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের মধ্যে এসএম শাখাওয়াত হোসেন, রানি এবং পাখি ১০০ শতাংশ পোড়া পেয়েছেন। শাওন ৪০ শতাংশ, উম্মে আয়মান ২৫ শতাংশ, এবং শিপন ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পোড়া পেয়েছেন। মোঃ সুমন ৪৫ শতাংশ পোড়া নিয়ে অচেতন অবস্থায় আছেন।
ডাঃ রফিক আহমেদ, ইউনিটের প্রধান, জানান সকল রোগীর শ্বাসনালীর ক্ষতিও রয়েছে এবং উল্লেখ করেন যে এসএম শাখাওয়াত হোসেন, রানি ও পাখি সম্পূর্ণ দেহে পোড়া পেয়েছেন।
এসএম শাখাওয়াত হোসেন হাসপাতালে দুর্বল কণ্ঠে জানান, “সেহরির পর টেবিলে বসে ফজরের নামাজের অপেক্ষা করছিলাম, হঠাৎ জোরে এক ধাক্কা শোনা গেল এবং আগুন দরজা ভেঙে বেরিয়ে এল।” তিনি বলেন, দরজাটি ভারী কাঠের ছিল এবং এক মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
বিস্ফোরণের ফলে ফ্ল্যাটের দরজা এবং কাছাকাছি এলিভেটর শ্যাফ্টে ক্ষতি দেখা গেছে। শাখাওয়াতের ভাগ্নে কাওসার জানান, “বিস্ফোরণটি এলিভেটরের পাশে থেকে ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে, কারণ দরজা ক্ষতিগ্রস্ত এবং ফ্ল্যাটটি ঠিক সেই পাশে অবস্থিত।”
ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে গ্যাস লিকই মূল কারণ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বর্তমানে সব রোগী বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে পর্যবেক্ষণে আছেন এবং চিকিৎসা চলমান। ভবিষ্যতে তদন্তের মাধ্যমে গ্যাস লিকের সঠিক উৎস ও দায়িত্বশীলতা নির্ধারণ করা হবে।



