নেপালের পশ্চিমাঞ্চলের ধাদিং জেলায় একটি যাত্রীবাহী বাস গিরিসঙ্কটে গিয়ে ১৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে, যার মধ্যে একজন ব্রিটিশ পর্যটক অন্তর্ভুক্ত। ঘটনাটি সোমবার ভোরে পোখরা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার পথে ঘটেছে, যেখানে বাসটি ২০০ মিটার (প্রায় ৬৫০ ফুট) গভীর গিরিতে নেমে গিয়েছিল। মোট ৪৪ জন যাত্রী বাসে চড়ে ছিলেন, যার মধ্যে ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাকি ২৫ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশের মতে, মৃতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন ব্রিটিশ নাগরিক অন্তর্ভুক্ত। আহতদের মধ্যে নিউ জিল্যান্ড ও চীনের একেকজন নাগরিক রয়েছে, যাদের কাঠমান্ডু শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
অভিযানকারী সেবা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, গিরির গভীরতা ও কঠিন ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার কাজ কঠিন হয়ে ওঠে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গিরির প্রান্তে নিরাপত্তা রক্ষা করে, যাতে অতিরিক্ত কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করা যায়।
নেপালের সড়ক অবকাঠামো দীর্ঘদিনের দুর্বলতার শিকার, বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে গাড়ি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা দেশের পর্যটন শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।
ব্রিটিশ, নিউ জিল্যান্ড এবং চীনের দূতাবাস ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে কনসুলার সহায়তা প্রদান করার জন্য দল পাঠিয়েছে। একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, “আমরা আক্রান্ত নাগরিকদের ত্বরিত চিকিৎসা ও পরিবারকে তথ্য প্রদান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।” এ ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ দেশীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আন্তর্জাতিক নজরদারির প্রতিফলন।
নেপালের সরকার ঘটনাটির সম্পূর্ণ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে গিরি-প্রান্তের সড়কগুলোকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতি অনুযায়ী, “গিরি-প্রান্তের রোডের নিরাপত্তা মান উন্নত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।” এই পদক্ষেপটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী সড়ক নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অঞ্চলীয় বিশ্লেষকরা তুলনা করে দেখেছেন, হিমালয়ীয় দেশগুলোতে প্রায়ই এমনই দুর্ঘটনা ঘটে, যেমন পূর্ববর্তী বছরগুলিতে ভারত ও তিব্বতে ঘটিত গিরি-দুর্ঘটনা। তারা উল্লেখ করেন, “পাহাড়ি রুটে গাড়ি চালনা করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, উন্নত সিগন্যালিং এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য।” এই ধরনের সুপারিশ নেপালের সরকারকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গ্রহণে উৎসাহিত করতে পারে।
অভিযানকালে স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবকরা আহতদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসে, যা সম্প্রদায়ের সংহতি ও সহানুভূতির প্রতিফলন। তবে, দীর্ঘমেয়াদে গিরি-প্রান্তের সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন না হলে, একই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় ঘটার সম্ভাবনা রয়ে যায়।
এই ঘটনার পর নেপাল সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা একত্রে কাজ করে সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন গন্তব্যে সড়ক নিরাপত্তা মানদণ্ডের উন্নতি, জরুরি সেবা দ্রুততর করা এবং পর্যটকদের জন্য নিরাপদ রুটের তথ্য প্রদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সারসংক্ষেপে, নেপালের ধাদিং জেলায় গিরিসঙ্কটে বাসের পতন একটি বড় মানবিক ট্র্যাজেডি সৃষ্টি করেছে, যেখানে বহু বিদেশি নাগরিক আহত হয়েছে। এই ঘটনা দেশের সড়ক অবকাঠামোর দুর্বলতা উন্মোচন করেছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ও সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য রাখা এবং পর্যটন শিল্পের সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করা নেপালের জন্য অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।



