রিশাব শেট্টি প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন নতুন মিথ্য-ধর্মীয় চলচ্চিত্র ‘জয় হানুমান’ এর মুহূর্ত পূজা ২২ ফেব্রুয়ারি অঞ্জনাদ্রি বেটায় অনুষ্ঠিত হয়। অঞ্জনাদ্রি বেটা, হানুমানের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত, এই অনুষ্ঠানকে ধর্মীয় গুরুত্ব প্রদান করেছে। চলচ্চিত্রটি প্রযোজক প্রাসাদ ভরসা ও প্রাসাদ ভরসা ইউনিভার্সের অংশ হিসেবে পরিকল্পিত, যেখানে প্রাসাদ ভরসা পরিচালনা করবেন।
মুহূর্ত অনুষ্ঠানে টি-সিরিজের প্রতিষ্ঠাতা ভুষণ কুমার, মিথ্রি মুভি মেকার্সের নাভিন ইয়ের্নেনি ও ওয়াই. রবি শঙ্কর, এবং টি-সিরিজের শিব চ্যাননা উপস্থিত ছিলেন। প্রাসাদ ভরসার পূর্ববর্তী প্রকল্প ‘হানু-ম্যান’ (২০২৪) থেকে তেজা সাজ্জা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সকল উপস্থিতি একত্রে অঞ্জনাদ্রি বেটার পবিত্র পরিবেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে, চলচ্চিত্রের সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করেন।
‘জয় হানুমান’ চলচ্চিত্রটি প্রাসাদ ভরসা সৃষ্টিকর্তা ইউনিভার্সের (PVCU) একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ভারতীয় পুরাণ ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে নির্মিত এই প্রকল্পে রিশাব শেট্টি হানুমানের চরিত্রে অভিনয় করবেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হবে। চলচ্চিত্রের গল্প, প্রাসাদ ভরসা দ্বারা রচিত, হানুমান ও রামচন্দ্রের ভক্তদের জন্য গভীর ধর্মীয় অনুভূতি জাগ্রত করার লক্ষ্য রাখে।
অঞ্জনাদ্রি বেটায় মুহূর্তের সময় রিশাব শেট্টি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে, হানুমানের জন্মস্থানে এই অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রযোজক ও পরিচালককে প্রথমে অনুরোধ করেছিলাম হানুমানের জন্মস্থানে মুহূর্ত করা হোক। আজ এখানে সবাই একত্রে তার আশীর্বাদ চাইতে পারছি, যা আমাদের জন্য বড় সৌভাগ্য।” তার কথায় প্রকল্পের ধর্মীয় গুরুত্ব ও ব্যক্তিগত অনুভূতি স্পষ্ট হয়েছে।
রিশাব শেট্টি আরও বলেন, “‘কান্তারা’ প্রথম ভাগের মুক্তির আগে ‘জয় হানুমান’ ঘোষিত হয়েছিল, এবং এটি আমার জন্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সেবা করার একটি বিরল সুযোগ। এটি একটি দিভ্য চলচ্চিত্র, যেখানে স্ক্রিনে আমাদের ভক্তি প্রকাশের সুযোগ পাব।” তিনি প্রাসাদ ভরসার গল্পের শক্তি ও ভক্তদের আস্থা নিয়ে আশাবাদী ছিলেন।
চলচ্চিত্রের উৎপাদন দল অঞ্জনাদ্রি বেটার পবিত্রতা ও হানুমানের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে, শুটিংয়ের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করেছে। মুহূর্তের সময় উপস্থিত শিল্পী ও কর্মীরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, প্রকল্পের সাফল্যের জন্য আন্তরিক প্রার্থনা করেন।
‘জয় হানুমান’ এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটি প্রাসাদ ভরসা সৃষ্টিকর্তা ইউনিভার্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী গল্পের সমন্বয় ঘটাবে। রিশাব শেট্টি হানুমানের চরিত্রে অভিনয় করে, দর্শকদের কাছে পুরাণের নৈতিকতা ও শক্তি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখছেন।
প্রযোজক ভুষণ কুমার মঞ্চে উপস্থিত হয়ে, “এই প্রকল্পটি আমাদের টি-সিরিজের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। মিথ্রি মুভি মেকার্সের সঙ্গে সহযোগিতা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়,” বলে প্রকাশ করেন। মিথ্রি মুভি মেকার্সের নাভিন ইয়ের্নি ও ওয়াই. রবি শঙ্করও চলচ্চিত্রের সৃজনশীল দিক নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
মুহূর্তের পর, দলের সদস্যরা অঞ্জনাদ্রি বেটার পবিত্র পরিবেশে একত্রে পুজা সম্পন্ন করে, হানুমানের আশীর্বাদ নিয়ে শুটিং শুরু করার প্রস্তুতি নেন। রিশাব শেট্টি উল্লেখ করেন, “এই পবিত্র স্থানে মুহূর্ত করা আমাদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যা চলচ্চিত্রের আধ্যাত্মিকতা বাড়িয়ে দেবে।”
‘জয় হানুমান’ এর শুটিং সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে প্রাসাদ ভরসা ও রিশাব শেট্টি উভয়ই নিশ্চিত করেছেন, দর্শকদের জন্য একটি দিভ্য ও ভক্তিময় অভিজ্ঞতা তৈরি করা হবে। চলচ্চিত্রের প্রকাশের তারিখ ও অন্যান্য তথ্য শীঘ্রই জানানো হবে।
এই মুহূর্ত পূজা, হানুমানের জন্মস্থানে অনুষ্ঠিত হওয়ায়, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হানুমানের গুণাবলি ও রামচন্দ্রের সঙ্গে তার সম্পর্ককে আধুনিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যা ভারতীয় পুরাণের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করবে।
‘জয় হানুমান’ এর প্রস্তুতি ও মুহূর্তের এই বিশদ বিবরণ, চলচ্চিত্রের ভক্ত ও ধর্মীয় অনুসারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলেছে। রিশাব শেট্টি ও প্রাসাদ ভরসার দল এই প্রকল্পকে একটি দিভ্য মিশন হিসেবে বিবেচনা করে, দর্শকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলতে চায়।



