দুপুরের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১ (আইসিটি‑১) এর সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রাক্তন প্রধান প্রোsecutor তাজুল ইসলাম জানান, জুলাই‑আগস্টের উত্থান সংক্রান্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের চলমান ট্রায়াল নতুন প্রধান প্রোsecutor আমিনুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অব্যাহত থাকবে।
তাজুল ইসলাম আজকের এই বক্তব্য দেন, যেহেতু নতুন সরকার গৃহীত হওয়ার পর নতুন প্রধান প্রোsecutor নিযুক্ত করা হয়েছে এবং তিনি নিজে পদত্যাগ করে আমিনুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণে সহায়তা করেছেন।
সম্মেলনে তিনি নতুন প্রধানকে স্বাগত জানিয়ে, তার সফলতা কামনা করেন এবং উল্লেখ করেন, “আমি আশা করি তিনি আমাদের অবশিষ্ট দায়িত্বগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করবেন”। তাজুলের এই মন্তব্যে নতুন নেতৃত্বের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ করা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই পরিবর্তনকে তিনি স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তাজুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, “জুলাই‑আগস্টে রক্তাক্ত হয়ে আত্মত্যাগ করা বা আহত হওয়া দেশের মানুষদের জন্য ট্রায়াল এখনো চলমান। নতুন প্রধানের নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়া সঠিকভাবে এগিয়ে নিতে হবে”। এভাবে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অধিকার রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
তিনি ট্রায়াল প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো উদ্বেগের কারণ নেই বলে স্পষ্ট করেন। “বর্তমান প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা নেই, এবং নতুন প্রধানের তত্ত্বাবধানে এটি আরও মসৃণভাবে চলবে” তিনি বলেন।
পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের তৃষ্ণা সম্পর্কে তাজুলের মন্তব্যে দেখা যায়, “যদিও তাদের প্রিয়জন ফিরে না আসলেও, তারা দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মাধ্যমে কিছু সান্ত্বনা পেতে চায়”। এভাবে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের মানসিক অবস্থাকে তুলে ধরেছেন।
নতুন প্রধানকে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণের সময় ভুক্তভোগী ও শোকাহত মানুষের কষ্টকে মাথায় রাখবেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ট্রায়ালকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
প্রশ্ন করা হলে তাজুল ইসলাম জানান, তার মূল পরিচয় সর্বোচ্চ আদালতের একজন আইনজীবী, এবং তিনি শীঘ্রই তার পেশাগত জীবনে ফিরে যাবেন। তিনি আইসিটি-তে আর কোনো পদে থাকবেন না, বরং আদালতে তার কাজ চালিয়ে যাবেন।
এই ঘোষণার ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ধারাবাহিকতা ও নতুন সরকারের ন্যায়বিচারপ্রতি অঙ্গীকারের ওপর আলোচনার সম্ভাবনা বাড়ছে। উত্থান সংক্রান্ত ট্রায়াল চালিয়ে যাওয়া সরকারকে মানবাধিকার রক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংলাপ ও ন্যায়বিচার নীতির ওপর প্রভাব ফেলবে।



