ইউরোপীয় কমিশন ২২ ফেব্রুয়ারি একটি বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্ক ঘোষণার ওপর স্পষ্টতা দাবি করেছে। কমিশন উল্লেখ করেছে যে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ২০২৫ সালের আগস্টে ইইউ‑মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে প্রতিশ্রুত ‘ন্যায়সঙ্গত, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিকভাবে উপকারী’ বাণিজ্য নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ইইউ তার সদস্য দেশ ও ব্যবসার স্বার্থ রক্ষা করতে দৃঢ় অবস্থান নেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোম্পানি ও রপ্তানিকারকদের ন্যায়সঙ্গত আচরণ, পূর্বাভাসযোগ্য নীতি এবং আইনি নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা হবে বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে।
ইইউ কমিশনের মতে, পূর্বে সম্মত সীমার বাইরে শুল্ক বৃদ্ধি করা উচিত নয়। তাই, ট্রাম্পের নতুন শুল্কের পরিধি যদি এই সীমা অতিক্রম করে, তবে তা ইইউ‑মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির মৌলিক নীতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এই অবস্থান ইইউকে ভবিষ্যতে শুল্ক বিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত করে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিবৃতি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউরোপীয় রপ্তানিকারকরা এখন ট্রাম্পের শুল্ক নীতির পরিবর্তনের ফলে সম্ভাব্য খরচ বৃদ্ধি ও রপ্তানি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। একই সঙ্গে, আমেরিকান আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়লে ইউরোপীয় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে।
ইইউ‑মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি হল পারস্পরিক সুবিধা ও সমতা। তবে ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে, ইইউ এখন এই ভিত্তি রক্ষা করতে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। শুল্কের অতিরিক্ত বৃদ্ধি ইইউ‑মার্কিন বাণিজ্য সমঝোতার পুনঃমূল্যায়নকে বাধ্য করতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, যদি শুল্কের পরিমাণ পূর্বে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে, তবে ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে সংশ্লিষ্ট শিল্পের শেয়ার মূল্য হ্রাস পেতে পারে। বিশেষ করে অটোমোবাইল, কৃষি ও প্রযুক্তি সেক্টরে রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল কোম্পানিগুলো প্রথমে প্রভাবিত হবে।
ইইউ কমিশন ভবিষ্যতে ট্রাম্পের শুল্ক নীতির স্বচ্ছতা না পেলে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে কাস্টমস শুল্কের পুনর্বিবেচনা, বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিত করা বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা গড়ে তোলার সম্ভাবনা অন্তর্ভুক্ত।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ইইউ‑মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় পক্ষেরই স্বার্থ রক্ষা করা জরুরি। ট্রাম্পের শুল্ক নীতি যদি ইইউ‑মার্কিন যৌথ বিবৃতির সাথে সঙ্গত না হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যিক বিরোধের ঝুঁকি বাড়াবে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইউরোপীয় কমিশন ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার স্বচ্ছতা ও পূর্বে নির্ধারিত সীমার প্রতি আনুগত্যের দাবি করে, যাতে ইইউ‑মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের মৌলিক নীতি বজায় থাকে। এই অবস্থান ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক আলোচনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বাজারে অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়তা করবে।



