বাংলাদেশ সরকার এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড প্রতিনিধি (USTR) সঙ্গে বৈঠক করে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা যাচাই করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশিরভাগ শুল্ক বাতিল হওয়ায়, আর্ট (American Reciprocal Tariff) চুক্তি এখনও কার্যকর কি না তা অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ব্যাপক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তার ক্ষমতা অতিক্রম করেছেন। এই রায় প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করেছে এবং পূর্বে তার অধীনে গৃহীত চুক্তিগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বাংলাদেশ সরকার এই পরিস্থিতিতে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও পূর্বের চুক্তির বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রী মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন। তিনি জানান, স্থানীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তি ও নতুন পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হবে।
মহামান্য সরকার ফেব্রুয়ারি ৯ তারিখে আর্ট চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা জাতীয় নির্বাচনের তিন দিন আগে সম্পন্ন হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বৃহৎ পরিমাণে পণ্য আমদানি করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চেয়েছিল। স্বাক্ষরের সময় দ্রুততা ছিল কৌশলগত, কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের “লিবারেশন ডে” শুল্কের ফলে বাংলাদেশে ৩৭% শুল্ক আরোপের হুমকি ছিল।
সেই সময় ভিয়েতনাম ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো দ্রুত কম শুল্কের জন্য আলোচনায় এগিয়ে আসে, ফলে বাংলাদেশ ১৯% শুল্কে চুক্তি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। মন্ত্রী রাহমানের মতে, চুক্তি ত্বরান্বিত করার পেছনে দুইটি প্রধান কারণ ছিল: প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর শুল্কের পার্থক্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সরকার গঠনের আগে দ্রুত স্বাক্ষরের চাপ।
এখন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের রায়ের পর, চুক্তির আইনি ভিত্তি পরিবর্তিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার USTR-এর সঙ্গে প্রথমে আলোচনা করে চুক্তি বাতিল হবে কি না, তা নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছে। এই আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের স্বার্থ ও আইনি বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট করা হবে।
USTR-এর সঙ্গে আলোচনার সময় বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি ও চুক্তির কার্যকারিতা সম্পর্কে স্পষ্টতা চাইবে। একই সঙ্গে দেশীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর উদ্বেগ দূর করতে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার মিটিংয়ের আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায় শুল্ক নীতির স্বচ্ছতা ও কংগ্রেসের ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে এই রায়ের ফলে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে, যা উভয় দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থে প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ সরকার ভবিষ্যতে এই ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরের সময় আইনি ভিত্তি ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা সম্পর্কে আরও সতর্কতা অবলম্বন করবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। এছাড়া, শুল্ক নীতি পরিবর্তনের ফলে দেশীয় উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবে।
এই আলোচনার ফলাফল উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরবর্তী দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি চুক্তি বাতিল হয়, তবে বাংলাদেশকে বিকল্প বাণিজ্য নীতি গড়ে তুলতে হবে; অন্যদিকে, চুক্তি বজায় থাকলে শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে।
সর্বশেষে, বাংলাদেশ সরকার উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি ও আদালতের রায়ের প্রভাব বিশ্লেষণ করে, দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হবে।



